ন্যায্য দাবী আদায়ে বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করুন-জামায়েতের হেলাল
জুলাই ১৬ ২০২৬, ২০:২৩
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ।
এই সমাবেশকে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক এ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল।
সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এতে সভাপতিত্ব করেন এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। এ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি এবং জবাবদিহিতার অভাব দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় দক্ষিণাঞ্চলকে সম্পৃক্ত করতে ঢাকা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, বরিশালে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন শুধু আঞ্চলিক নয়, এটি জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।
তিনি বরিশালের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৮ জুলাইয়ের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে দল-মত নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের গণআন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই সমাবেশ হবে গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং উন্নয়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জনমতের এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
