আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

জুলাই ১২ ২০২৬, ২৩:০০

আমার বরিশাল ডেস্ক,

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:- মামলার ১ নম্বর আসামি ইদ্রিস ফকির, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, রাব্বি ফকির ও ইয়াসিন আক্তার। তাদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়ার ফুলশ্রী এলাকায়।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া থানা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন জানান, “গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আজ সকালে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নুরু মিয়া নামে এই মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।”

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় রিয়াজ ফকির নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে রিয়াজ হঠাৎ হাজতখানার গ্রিলে নিজের মাথা ঠুকে জখম হন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজের নিজ গ্রামে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, পুলিশের নির্যাতনে রিয়াজ মারা গেছেন। এই গুজবের জেরে বিকেল ৪টার দিকে দুই থেকে তিনশ বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানায় অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁরা থানার বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং এএসআই আব্দুল হালিমসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াজের বাবা ও বোনসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হওয়ার পর গত শুক্রবার মূল অভিযুক্ত রিয়াজকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার এএসআই আল-আমিন জানান, হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়ার পথেও রিয়াজ গাড়ির ভেতরে নিজের মাথায় আঘাত করছিলেন এবং পুলিশকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছিলেন। স্থানীয়ভাবে রিয়াজ একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। এর আগেও র‍্যাব ও পুলিশের হাতে মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে থানায় অন্তত তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....