গায়ে খুলে পড়ল লোহার গ্রিল,প্রাণে বাঁচল শিক্ষার্থীরা
জুলাই ০১ ২০২৬, ২০:০৭
* ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসি
* কেন জানানো হলো না স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে
আরিফ হোসেন ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের ১৭ নম্বর মকিমাবাদ নজিমুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের জানালার ওপর স্থাপিত একটি লোহার গ্রিল খুলে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তবে ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণের সময় নিম্নমানের সমগ্রী দেওয়ার হয়েছে বলে স্থানীয় অভিযোগ। অন্য দিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী আরাফাত বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার আরাফাতের পরিবারের দাবি, সপ্তাহ খানেক আগে স্কুলের ভবনের জানালার ওপরের ফাঁকা অংশে লাগানো লোহার গ্রিলটি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণভাবে স্থাপন করায় সেটি একটি ছোট বাচ্চা গ্রীলটি ধরার সাথেই খুলে গিয়ে আরাফাতের শরীরে পড়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে আরাফাত শয্যাশায়ী।
আহতের মা ফারজানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “৮-১০ বছরের একটি শিশু যদি দেয়ালের ওপরে এক মন ওজনের লাগানো একটি গ্রিল স্পর্শ করতেই সেটি খুলে পড়ে যায়, তাহলে ভবনের অন্যান্য অংশ কতটা নিরাপদ সেটি সহজেই অনুমান করা যায়। আমার সন্তান স্কুলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা, খোঁজ খবর বা প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার তিন দিন পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধু ফোন করে আরাফাতের খোঁজ নেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পরপরই কেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়নি, সেটি আমার কাছে বড় প্রশ্ন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. ফেরদৌসি বেগম বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাটি জানতে চাইলে বিষয়টি আর ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজের মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারী ভাবে স্কুলে বরাদ্দকৃত খাবারের মানও নিম্ন মানের। এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক ভাবে বন্টন করা হচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. ফেরদৌসি বেগমের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বিকার করেন। পরে সংবাদকর্মীরা তার প্রমান দেখালে বিষয়টি ছোট বলে বর্ননা দেয়। এবং তিনি আরো বলেন, বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বল খেলতে ছিলো। তখন আরাফাত নিচে চলে গিয়ে জানালার উপরে লোহার গ্রীল ধরলে গ্রীলটি ছুটে গিয়ে গায়ে পরে আহত হয়েছে। তবে বড় কোন দূঘর্টনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। তবে কমিটি এবং উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কেন জানালেন না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ঘটনাটি ছোট তাই জানানো প্রয়োজন মনে করিনি।
এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও)রুহুল আমিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমেই বলেন এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এরকমের কোন ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সব অবকাঠামো নিরাপদ কিনা তা যাচাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
