বকেয়া পরিশোধ ও চাকরি নিরাপত্তার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
জুন ২৮ ২০২৬, ১৬:১৮
বকেয়া মজুরি-ভাতা পরিশোধ, সার্ভিস বেনিফিট নিশ্চিতকরণ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তাসহ কারখানা হস্তান্তরের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে কারখানার গ্যাস টার্বাইন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।
মিছিলটি রূপাতলী গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে সেখানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। কর্মসূচিতে তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অবিলম্বে দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল, সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে কারখানা হস্তান্তরের দাবি জানান। তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে এসব দাবির প্রতিফলন দেখা যায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দার।
এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ জেলা শাখার সদস্য গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুকুমনি, মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোনিয়া আক্তার, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদার এবং গ্লোবাল ক্যাপসুল শ্রমিক ইউনিয়নের (প্রস্তাবিত) সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শাহাদাত।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশ জারির পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় অনেক শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই সঙ্গে সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
তারা জানান, আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের সব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুনের বৈঠকে বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তারা। প্রয়োজনে জেলার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
