চরফ্যাশনে চিকিৎসায় চরম সংকট
জুন ২৭ ২০২৬, ২২:১৪
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জনসংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। বিশাল জনসংখ্যার এই অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন মাত্র ১৬ জন মেডিকেল অফিসার। উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ১০০ শয্যার ভবনে পরিচালিত হলেও সরকারি অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৫০ শয্যার। ফলে রোগীর চাপের তুলনায় জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া নিয়মিত শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। ২৪ ঘণ্টা খোলা জরুরি বিভাগেও বিপুলসংখ্যক রোগী সেবা নিতে আসেন। শুধু চরফ্যাশন নয়, পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মনপুরা থেকেও অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
নিয়মিত সেবার এই বিপুল চাপের মাঝেও হাসপাতালটিতে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর বাবা সবুজ খান জানান, তার চার মাস বয়সী সন্তান হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাচ্ছেন না। হাসপাতালের টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। আমার সন্তানের অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার চিন্তা করছি।’
এদিকে প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে করাতে হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বিভাগটিতে সেল কাউন্টার (ব্লাড কাউন্ট) মেশিন, ল্যাব রোটেটর, আধুনিক মাইক্রোস্কোপ, রেফ্রিজারেটর, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে অনেক পরীক্ষা পুরোনো মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, “৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৪২ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে আছেন মাত্র ১৬ জন। এছাড়া ১০ জন কনসালট্যান্ট থাকার নিয়ম থাকলেও, রয়েছেন অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিক—মাত্র দুইজন। জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, “জনবল সংকট থাকার পরও আমাদের চিকিৎসকরা সাধ্যমতো নিরলসভাবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।”
চরফ্যাশনের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দ্রুত চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
