শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে শ্রদ্ধাঞ্জলি, র্যালি, আলোচনা সভা এবং কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের অংশগ্রহণে
শুক্রবার (২৬ জুন) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর একটি র্যালি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ফকির বাড়ি রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য উম্মে হালিম লাবনী, রেজওয়ান হোসেন সিয়াম, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ শাখার সদস্য রাকিবুল হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর সন্তান রুমিকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশের প্রথম গণআন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯২ সালে গঠিত একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি এবং গণআদালতের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম লালন করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেশের জনগণের ওপর ন্যস্ত। তারা দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু একজন শহীদ সন্তানের মা নন; তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
