আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে ৬১ হিজরির এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীরা স্বৈরাচারী ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। ইসলামের সুমহান আদর্শ, সত্য, ন্যায় এবং মানবিক অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। কারবালার সেই রক্তঝরা ইতিহাস আজও বিশ্ববাসীকে অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা জোগায়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর সমবেদনা ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” তিনি কারবালার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ইসলামের ইতিহাসে কেবল কারবালার ঘটনাই নয়, এই ১০ই মহররম বা আশুরার দিনে সৃষ্টির শুরু থেকে বহু ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও তওবা কবুল হওয়া, হযরত নূহ (আ.)-এর প্লাবন থেকে রক্ষা পাওয়া, হযরত মুসা (আ.)-এর নীল নদ পার হওয়া এবং ফেরাউনের সলিল সমাধিসহ বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এই দিনে ঘটেছে বলে ইসলামি গবেষক ও আলেমরা উল্লেখ করেন।
পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় ঐতিহাসিক হুসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
