অভিযোগ উঠেছে, সুজাতা খালার বাড়িতে থাকার সময়ই তাঁকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করে তাঁর পরিবার। গত মার্চ মাসে দোল পূর্ণিমার (হোলি) উৎসবের দিন সুজাতার মা কৌশলে খালাবাড়ি থেকে সুজাতাকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কিছুদিন পর ৩১ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পান গৌরী শঙ্কর। সেদিনই সুজাতার সাথে শেষবারের মতো মুঠোফোনে কথা হয় তাঁর। এরপর থেকেই সুজাতা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।
স্ত্রীর কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন গৌরী শঙ্কর। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, অন্য জাতে বিয়ে করার কারণে সুজাতার পরিবার তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছে। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বিষয়টি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গণমাধ্যমে খবর আসার পর নড়েচড়ে বসে মুজাফফরপুর জেলা পুলিশ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত সুজাতার ভাই অভিষেক কুমারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে নিজের বোনকে নৃশংসভাবে খুনের কথা স্বীকার করেন অভিষেক।
অভিষেক পুলিশকে জানান, অন্য জাতির ছেলের সাথে বোনের বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না পরিবার। মা সুজাতাকে কৌশলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর, অভিষেক ও তাঁর কয়েকজন আত্মীয় মিলে সুজাতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও সমস্ত তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলতে রাতেই তড়িঘড়ি করে সুজাতার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।
