ভোলার চরফ্যাশনে বাবার লাশ দাফনে বাধা দিয়েছেন নিজের সন্তানরা। কবর খোঁড়া হলেও লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩ নং ওয়ার্ডে এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে কবরস্থানে লাশ দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হলেও সন্তানরা সেখানে দাফন করতে বাধা দেয়। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ স্ত্রী ও সন্তানরা আবারও বাধা প্রদান করেন। এমনকি লাশ উঠানে রেখে ভাইবোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির উঠানে নামমাত্র জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করেন।
স্থানীয়রা জানান, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছেন। সন্তানদের অভিযোগ, তিনি রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে যান। এই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে এমন বাধা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, ‘‘ভাইবোনদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে অনেক বিরোধ চলছিল। মৃত্যুর আগে তাদের বাবা জলিল পণ্ডিত মীমাংসা করে দিতে পারেনি, তাই মৃত্যুর পরে এই জটলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী সন্তানদের বুঝিয়ে, মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করেন।’’
শশিভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের থানার পাশে এ ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা চার মায়ের দশ ভাইবোন। সম্পত্তির জন্য লাস মাটি দিতে বাধা দিলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের সমঝোতায় মীমাংসা করে লাস দাফন করা হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’’
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
