মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। এইচআইভির ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার ও নৈতিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাশরুর বিন আজাদ। তিনি জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ন্যূনতম ৩ হাজার ৭০৭ জন ব্যক্তি এইডসের ঝুঁকিতে আছেন। এর মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১ হাজার ৫০৬ জন, সমকামী ১-হাজার ৪৩৬ জন এবং শিরায় মাদকসেবী রয়েছেন ৭৬৫ জন।
তিনি আরও জানান, বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ২০৫ জন এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন মারা গেছেন এবং ৪ জন স্থানান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে ১৮৫ জন রোগী নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. মাশরুর বলেন, এইডস হলেই নিশ্চিত মৃত্যু এমন ধারণা সঠিক নয়। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাসের মাত্রা (ভাইরাল লোড) শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে পারবেন এবং সুস্থ সন্তানও জন্ম দিতে পারবেন।
উদ্বেগ প্রকাশ করে এই চিকিৎসক বলেন, এইডস নিয়ে সমাজে এক ধরনের সামাজিক কুসংস্কার ও আতঙ্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলেই এই রোগ ছড়ায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। কেবল আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে কিংবা অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই রোগ ছড়াতে পারে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, পানিতে বরফখণ্ডের তেরো ভাগের এক ভাগ ভেসে থাকে, বাকি অংশ থাকে পানির নিচে। এইডসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমন। সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই রোগ লুকিয়ে রাখেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর বাইরেও অনেকে থাকতে পারেন, যাঁরা এখনো পরীক্ষার আওতায় আসেননি।
