ঝালকাঠিতে ৩৩ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল
জুন ১৭ ২০২৬, ২০:৩৪
মো. নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি ॥ ঝালকাঠির ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গত ৪ জুন ঝালকাঠির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, ‘বাতিল হওয়া লাইসেন্সগুলো ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে নীতিমালা অনুযায়ী এসব লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘দ্য আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৭৮’-এর ২৬ ধারার ক্ষমতাবলে লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজ নিজ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া অস্ত্রের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ফেরত দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। ঝালকাঠি জেলায় থাকা শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স যাচাইয়ের পর ২৫ ব্যক্তির ৩৩টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বহাল থাকবে এবং যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে। এদিকে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি, সেসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম ও খান আরিফুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র আফজাল হোসেন রানা, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার, আইন সম্পাদক রুহুল আমিন রিজভী, পৌর কাউন্সিলর কামাল শরীফ, রেজাউল করিম জাকির, হাফিজ আল মাহমুদ। কীর্তিপাশার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, গাভারামচন্দ্রপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লিটন, নবগ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক আকন্দসহ আওয়ামী রাজনৈতিক দলের নেতারা রয়েছেন। এছাড়া ইয়াসমীন পপি, চন্দ্র শেখর হালদার, শাহীন মৃধা, আরিফ হোসেনসহ রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া লাইসেন্সের মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা এম.এ কুদ্দুস খানের নামও রয়েছে।
