বরিশালে নিখোঁজের পর আটোচালক যুবকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

জুন ১৫ ২০২৬, ১৬:৪৭

আমার বরিশাল ডেস্ক,
বরিশাল  : নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বরিশালের অটোচালক নাজমুল নামে এক যুবকের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেতারা।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুর ৩ টার দিকে বরিশাল নগরীর কালিজিয়া নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্ধী অবস্থায় যুবকের লাশটি উদ্ধার করেছেন পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, গত ১৩ জুন সকাল ৯ টার দিবে বিমানবন্দর থানাধীন রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকা আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে থেকে নাজমুল হোসেন (২২) নামে যুবক নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের লোকজন বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেন।  এর পর থেকে যুবকটি নিখোঁজ থাকেন। মঙ্গলবার দুপুরে আমাদের কাছে ৯৯৯ এর একটি ফোন আসে।
পরে আমরা জানতে পারি বস্তাবন্ধী একটি লাশ পরে আছে। আমরা আমরা গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করি। তবে পরিবারের দাবি পূর্ব শক্রুতার কারনে এই পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৩ জুন থেকে আটোরিক্সা চালক নাজমুল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তিনদিন পূর্বে আজ বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের ধারনা এটা একটি পরিকল্পত হত্যাকান্ড।
তবে খবর শুনে ঘটনাস্থলে পরির্দশন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কান্তি শর্মা। এসময় তিনি বলেন, নিখোঁজ এক আটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এটা একটি হত্যাকান্ড বলে তিনি ধারনা করেছেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম আরো বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সট- অলক কান্তি শর্মা, সহকারী পুলিশ কমিশনার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সংবাদটি শেয়ার করুন....