বরিশালে ডুবে থাকা কার্গো থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

জুন ১৫ ২০২৬, ১৩:৫৫

আমার বরিশাল ডেস্ক,

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীর চরে দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী কার্গো থেকে আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পারেরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকা থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আব্দুল্লাহ একই এলাকার আলাল পশারীর ছোট ছেলে। তিনি গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আকিজ গ্রুপের ‘এমভি গ্রীন এসট্রল-১’ নামের একটি পণ্যবাহী কার্গো উমেদপুর এলাকার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীর চরে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পর কার্গোর চালক ও সহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা নিরাপদে সরে যান। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে ডুবে থাকা জাহাজের পাশে একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকায় আব্দুল্লাহর একটি জুতা এবং কার্গোর সিঁড়ির ওপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রানা পশারী শনিবার জিয়ানগর (ইন্দুরকানি) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের ভাই রানা পশারী জানান, তার ভাই তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর লাশ উদ্ধার হলো। আব্দুল্লাহ ওই জাহাজের কাছে কেন এবং কীভাবে গিয়েছিলেন তা তারা বুঝতে পারছেন না। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার জিডির কপি পাওয়ার পর বরিশালের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। রোববার বিকেলে ডুবুরি দল এসে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় কার্গোটির ইঞ্জিনকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে। তিনি ধারণা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভবত চুরির উদ্দেশ্যে ওই যুবকসহ একাধিক ব্যক্তি নৌকা নিয়ে সেখানে এসেছিলেন। ইঞ্জিনকক্ষে ঢোকার সময় পা পিছলে আব্দুল্লাহ ভেতরে আটকে যান এবং তার সঙ্গীরা ভয়ে পালিয়ে যান। নৌকাটিতে নিহতের অপর জুতাটি পাওয়া গেছে।

জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান জানান, নিখোঁজের জিডির ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কার্গোর ভেতর থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....