অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু দ্রুত দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার, ৩০ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা ও দুই উপজেলা এবং পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ১৯টি পরিবারের হাতে ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় টিন, বাঁশ, কাঠসহ নির্মাণসামগ্রী এবং নগদ অর্থ তুলে দেন। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু নিজে নির্মাণাধীন প্রতিটি ঘর ঘুরে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পরিবারগুলো যাতে আর কষ্ট না পায়, সে জন্য দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।
সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার অম্বিকাপুর ওয়ার্ডের হালান সিকদার, কালিকাপুর ওয়ার্ডের বিধবা রাজিয়া বেগম, বদরপুর ওয়ার্ডের বিধবা কুলছুম বেগম ও জলিল বাঘা, দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ইসমাইল সরদার, আশা গ্রামের নয়ন রাঢ়ী এবং হিজলা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বিধবা নারগিস বেগমসহ মোট ১৯টি পরিবার।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের স্বামীহারা রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী আর ছেলে মারা যাওয়ার পর এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং এক নাতনিকে নিয়ে কোনোমতে বেঁচে ছিলাম। কালবৈশাখীতে গাছ পড়ে আমাদের শেষ সম্বল ঘরটাও মাটির সঙ্গে মিশে গেল। আজ যুবদলের ভাইয়েরা আমাদের জন্য নতুন ঘর বানিয়ে দিলেন। এখন নাতিদের নিয়ে নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারব।”
অম্বিকাপুর গ্রামের হতদরিদ্র হালান সিকদার বলেন, “ঝড়ে আমার ভাঙা ঘরটা আরও ভেঙে গেল। এক ছেলে আর তিন মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খাই, ঘর মেরামতের টাকা কোথায় পাব? যুবদলের কাছে সাহায্য চাইলে তারা কথা রেখেছে। তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
