কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস, হতাশ ব্যবসায়ীরা

মে ২৯ ২০২৬, ১৯:৩৪

আমার বরিশাল ডেস্ক,
কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে পশুর চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে শরীয়তপুরে এখন চলছে লবণজাতকরণের ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতিটি গরুর কাঁচা চামড়া মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাঁচ বছর আগেও একই মানের চামড়া ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাজারে হঠাৎ এমন ধস নামায় খুচরা চামড়া সংগ্রহকারীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫২ থেকে ৫৬ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাঁদের দাবি, কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর কোনো নজরদারি বা মনিটরিং নেই।

শরীয়তপুর পৌরসভার ঋষিপাড়া এলাকার একটি গোডাউনের সামনে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন এবং লবণজাতকরণে এখন আগের চেয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। কিন্তু বিক্রির সময় ট্যানারি মালিক বা আড়তদারদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই এই পৈতৃক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাজারে কোনো দাম নেই। সরকার নির্ধারিত দামে যদি বিক্রি নিশ্চিত করা না যায়, তবে আমাদের মতো প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরেক ব্যবসায়ী জানান, আগে কোরবানির মৌসুমে চামড়া ব্যবসা বেশ লাভজনক ছিল। এখন লোকসানের ভয়ে অনেকেই চামড়া কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ট্যানারির সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও কঠোর বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....