বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ, শ্যামলী ও হাজারীবাগ এলাকার কয়েকটি অস্থায়ী চামড়া সংগ্রহকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা চামড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেক বিক্রেতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
শ্যামলীর একটি সংগ্রহকেন্দ্রে চামড়া বিক্রি করতে আসা মো. রাশেদ বলেন, গত বছর যে চামড়া ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার সেটির জন্য ৮০০ টাকার বেশি কেউ দিতে চাচ্ছেন না। সরকারের ঘোষিত দামের কোনো প্রভাব বাস্তবে নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মালিবাগ এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম জানান, ট্যানারি মালিকরা আগেই কম দামে চামড়া কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বেশি দামে কিনলে লোকসানের ঝুঁকি থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামেই চামড়া সংগ্রহ করছেন।
অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ছাগলের চামড়া কিনতে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কেউ কেউ বিনামূল্যেও চামড়া দিয়ে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, সংরক্ষণের খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, বাজার পুরোপুরি ধসে পড়েনি। হাজারীবাগের এক আড়তদার দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি চামড়ায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার না করায় চামড়ার মান নষ্ট হচ্ছে এবং দাম কমে যাচ্ছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছে মসজিদ, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পরে এসব চামড়া কিনে নিচ্ছেন আড়তদার ও ট্যানারি প্রতিনিধিরা।
