শেষ মুহূর্তে বিক্রি বাড়লেও হাসি নেই বিক্রেতাদের মুখে

মে ২৭ ২০২৬, ১৬:১৭

আমার বরিশাল ডেস্ক,

রাত পোহালেই দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তের ত্যাগের ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে গরু ও মহিষের বিক্রি বেশ বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বিক্রেতা ও খামারিদের মনে কোনো আনন্দ নেই, বরং চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে অসন্তুষ্টি। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে গরুর দাম অনেকটাই পড়ে গেছে বলে দাবি করছেন তারা। এর ওপর সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

বুধবার সকালে গাবতলী পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনবরত বৃষ্টির কারণে পুরো হাট জুড়ে এক চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাটের বিভিন্ন নিচু স্থানে পানি জমে কাদা ও কর্দমাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় পশু নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল করতে সবাইকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় হাঁটার মতো ন্যূনতম পরিস্থিতিও নেই। এই কাদার কারণে পশুর যত্ন নেওয়া, ক্রেতাদের পশু দেখানো এবং কেনাবেচার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রান্তিক খামারি ও ব্যবসায়ীরা এই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর থেকে ২২টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছিলেন ফরহাদ হোসেন নামে এক বিক্রেতা। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর ১৫টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তবে বিক্রি হলেও বাজারের অবস্থা ভালো না হওয়ায় কোনো গরুরই কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি তিনি। কুষ্টিয়ার আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন তাঁর প্রায় ১০ মণ ওজনের একটি গরুর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই গরুটির দাম বাড়িতেই ক্রেতারা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলেছিল। অথচ ঢাকার হাটে এসে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন। ফলে এটি বিক্রি করবেন নাকি লোকসান দিয়ে ফেরত নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

একই সুর শোনা গেল মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে দুটি বড় গরু নিয়ে আসা ইদ্রিস মোল্লার কণ্ঠেও। প্রায় ১৪ মণ ওজনের গরু দুটির দাম নিজ এলাকায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উঠলেও গাবতলী হাটে ক্রেতারা বলছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গোখাদ্য ও লালন-পালনের খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে এই কম দামে বিক্রি করলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। বিক্রেতা আবুল হোসেন সরাসরি বলেন, গতকালের তুলনায় আজ গরুর দাম অনেকটাই কমে গেছে; অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে দুই লাখ টাকার গরু এখন দেড় লাখ টাকায় ছেড়ে দিতে হচ্ছে। সকালের বৃষ্টি মানুষকে হাটে আসতেও বাধা দিচ্ছে।

তবে বিক্রেতারা লোকসানের আশঙ্কায় বুক বাঁধলেও ক্রেতাদের জন্য বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক। রাজধানীর শ্যামলী থেকে সকাল সকাল (সকাল ৯টায়) গরু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম শান্ত জানান, বৃষ্টির কারণে কাদার মধ্যে ভালোভাবে ঘুরে ঘুরে গরু দেখতে খুব সমস্যা হচ্ছে। তবে দামের দিক থেকে বাজার অনেকটাই সহনীয় ও নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছে। পছন্দের সঙ্গে বাজেটের মিল ঘটলেই তিনি দ্রুত গরু কিনে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন....