উত্তাল মেঘনায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার
মে ২৫ ২০২৬, ১৭:১৬
ভোলায় নৌপথে ঈদে ঘরমুখে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। কাকডাকা ভোর থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একের পর এক লঞ্চ-ট্রলার ইলিশা ঘাটে ভিড়ছে। তবে অনেকে লঞ্চে উঠতে না পেরে ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলারে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন।
সোমবার (২৫ মে) সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আটটি লঞ্চ ভোলার ইলিশা ঘাটে যাত্রী নিয়ে পৌঁছায়। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫টি ট্রলারে কয়েক হাজার যাত্রী ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছালেও লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রলারে আসা যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে এসব যাত্রীদের। এ ছাড়া মেঘনায় নাব্য সংকটের কারণে ওই রুটের নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ দিকে আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর উপস্থিতেই নিষিদ্ধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীদের সুবিধার জন্যই ট্রলারে পারাপারের কথা জানান ট্রলারচালক।
আরও পড়ুন: নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঘাটে নামতেই পরিবহনের অভাবে ভোগান্তি
ট্রলারে আসা যাত্রী মো. রাকিব জানান, চট্টগ্রাম থেকে ভোররাত ৪টায় মজু চৌধুরীর ঘাটে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লঞ্চ না পেয়ে ট্রলারে উঠেছেন। ১৮০ টাকার ভাড়া ২৫০ নেয়া হচ্ছে। ছোট্ট ট্রলারে বিপুল সংখ্যা যাত্রী তোলায় নড়াচড়ার সুযোগ হয়নি। এ ছাড়া ছাউনি ছাড়া খোলা ট্রলারে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
চরফ্যাসনগামী আরেক যাত্রী মো. ইকরাম জানান, মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে লঞ্চে রওয়ানা হন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর লঞ্চটি মাঝনদীতে আটকে যায়। পরে বিকল্প উপায়ে ট্রলারে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইলিশা ঘাটে এসেছেন। তীব্র গরমের সঙ্গে নদীর মাঝে ঢেউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসেছেন।
যাত্রী সফিক সিকদার জানান, স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও দ্রুত বাড়ি ফিরতে ট্রলারে করে রওয়ানা দিয়ে মাঝপথে ঢেউয়ের কবলে পড়েছি। এভাবে ঝুঁকি নেয়া ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অবৈধভাবে যাত্রী নিয়ে আসা এমবি আফনান খন্দকার-০২ ট্রলারের চালক মো. শাজাহান জানান, লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে। আটযাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তিনি ট্রলারে করে যাত্রী পরিবহন করছেন।
উত্তাল মেঘনায় যাত্রী পরিবহনের বিষয় তিনি বলেন, ‘নদী শান্ত তাই যাত্রী এনেছেন।
এ দিকে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রিয়াজ হোসেন, ইসমাইল হোসেনসহ অনেক যাত্রী জানান, প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এটা মানতে হবে। ভিড় হলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরে খুশি তারা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটি ’র সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে জানান, নাব্য সংকটের কারণে মাঝ নদীতে ডুবোচরে লঞ্চ আটকা পড়েছে। তাই ট্রলারে কিছু যাত্রী পারাপার হচ্ছে।
