বিসিসির প্লট কিনে বিপাকে গ্রাহকরা!

মে ২৩ ২০২৬, ২০:৩৪

আমার বরিশাল ডেস্ক,
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প ২ এর গ্রাহকের টাকা লোপাট হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাউজিং প্রকল্পের টাকা এই খাতেই ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও তা কোনখাতে ব্যাবহার হয়েছে তা খতিয়ে দেখে হাউজিং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে করনীয় শীর্ষক রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে কমিটি।

অপরদিকে প্লট ক্রয় করে বিপাকে পরেছেন কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প ২ এর গ্রাহকরা। উচ্চ আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও প্লটের ২৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করেও বিগত তিন বছরেও প্লট বুঝে পায়নি বলে দাবী করেছেন গ্রাহকেরা।

অধিকাংশ গ্রাহকরা জানিয়েছেন, প্লটের টাকা গায়েব বা অন্যখাতে খরচ করলে তা করেছে কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।

এতে প্লট গ্রহীতাদের দোষ কোথায়! নিয়মের বাহিরে গিয়ে যদি কোন আওয়ামী লীগ নেতা প্লট পেয়ে থাকেন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তা বাতিল বা স্থগিত করে দেয়া হোক।

তারা আরও জানিয়েছেব, যারা মাস্টার প্ল্যান এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন তারা আসলে প্লট পাওয়ার জন্য মামলা করেছেন।

মামলার বাদি মকবুল গাজী একজন আওয়ামী লীগের অর্থদাতা। বিসিসির সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাফিকুল ইসলাম (মামা খোকনের) তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

সূত্রে আরও জানা গেছে, সাবেক সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সাথে আতাত করে রিট করে হাউজিং এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো তারা।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি শাখা থেকে জানা যায়, কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প ১ এর পরে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল মেয়র থাকাকালীন প্রকল্প ২ এর অনুমোদন আনা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। এ প্রকল্পে ২৪০টি প্লট রয়েছে।

সূত্রমতে, মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ প্লট মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ব্যাক্তি ও সুধীজনদের বরাদ্দ হয়েছে।

বাকী প্লট লটারিতে যারা পেয়েছেন তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। এ, বি, সি, ডি এই চার ক্যাটাগরির প্লট।

এরমধ্যে শুধুমাত্র ডি ক্যাটাগরির প্লট তৎকালীন সময়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাকিগুলো বুঝিয়ে দেয়ার আগেই উচ্চ আদালতের একটি রিটের কারণে প্রকল্পের বাকী কাজ থমকে গেছে।

সেখানে ড্রেন, আলোক বাতি, এবং বালু ফেলে রাস্তা করে পরিকল্পিত একটি হাউজিং করার কথাছিলো। সে অনুযায়ী স্টিমেট এবং প্লান করা আছে।

এরমধ্যে অনেকে নিজ দায়িত্বে বালু ফেলেছেন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এখন আর নেই।

প্লট গ্রহীতা ওয়াসিম জানান, তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আবেদন ফরম পূরণ করে লটারি মাধ্যমে তিনি প্লট পেয়েছেন। তার মতো মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের অনেক নেতারাও এই প্রকল্পে জমি ক্রয় করে বিপাকে পরেছেন।

কিস্তির ৭৫ শতাংস টাকা বাকী রয়েছে। সেটি পেলে বিসিসি বিরাট একটা রাজস্ব পাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গ্রাহকরা হোল্ডিং করবে, প্ল্যান করবে। সেখানেও রাজস্ব পাবে বিসিসি।

ব্যাংক স্লিপ এবং বরাদ্দপত্র সবই তার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিসির বিষয়টি নিয়ে কোন উদ্যোগ নেই।

মুজিব মেহেদী নামের একজন প্লট ক্রয়কারী জানান, আমি একজন বেতার শিল্পী। বেতারে গান গাই। লোন করে টাকা জমা দিয়েছি। বিসিসি বালু ভরাট বাবদ টাকাও ধরে নিয়েছে টোটাল টাকার সঙ্গে। যদি কোন আওয়ামী লীগ নেতার কারণে প্লট নিয়ে ঝামেলা থাকে তার প্লট স্থগিত করুক (বাতিল করুক)। তার কাগজপত্র চেক করুক। তার কারণে আমরা কেন ভোগান্তির স্বীকার হবো।

আমিনুল ইসলাম নামের একজন প্রভাষক জানান, দীর্ঘদিন যাবত তিনি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। প্লট পেয়েছেন কিন্তু তিনি এখনো তা বুঝে পাননি। তিনি পুরো টাকা জমা দিয়েছেন কর্পোরেশনে।

মামলার রিটকারি একজন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা।


মামা খোকনের কাউন্সিলর কার্যালয় মকবুল গাজীর অর্থে নির্মিত হয়েছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, মকবুল গাজীর দুই ছেলে ছাত্রলীগের রাজিব এবং মান্নার লোক। যার অসংখ্য প্রমান রয়েছে। অথচ তারা সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মিথ্যে কিছু অভিযোগ এনে ফায়দা নেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে জিম্মি করার চেষ্টা করছেন।

সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি শাখার প্রধান শাকিল আহমেদ জানান, কিস্তির টাকার স্লিপ ফাইলে জমা আছে। এই টাকা এখাতে খরচ করার নিয়ম। অন্যখাতে ব্যাবহার করেছে কিনা তা হিসাব শাখা ভালো বলতে পারবে।

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের, প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, আমি দায়িত্বগ্রহনের পর ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এখানে নিরীহ কোন ব্যক্তি হয়রানি হওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে একখন্ড জমি ক্রয় করে বসবাসের জন্য।

সেখানে যদি কারো কাগজপত্র সমস্যা থাকে, কারো অনিয়ম হয়, সেটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বরিশাল
২৩-০৫-১৬
সংবাদটি শেয়ার করুন....