মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল চক্রের সদস্য আব্দুর রহমানের। সেই সুবাদে গত ৭ মার্চ বিকেলে জরুরি কাজের কথা বলে সিরাজুলকে গির্জামহল্লা এলাকায় ডাকেন আব্দুর রহমান। রাত ৯টার দিকে সিরাজুল সেখানে গেলে তাঁকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের ৪২৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল চক্রের ৮-১০ জন সদস্য।
সিরাজুল কক্ষে ঢোকা মাত্রই নারী সদস্য ম্যালাইসা তাঁর সাথে কথা বলা শুরু করেন এবং অন্য সদস্যরা তাঁকে জোরপূর্বক খাটে বসিয়ে দেন। এরপর তাঁর সাথে তরুণীর অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চক্রের সদস্যরা সিরাজুলের পকেট থেকে ১২০০ টাকা কেড়ে নেয় এবং আরও ১৩ হাজার টাকা দাবি করে।
এক পর্যায়ে কৌশলে বিষয়টি হিজবুল্লাহ সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে জানান সিরাজুল। তাঁর মাধ্যমেই খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ রাতে ওই হোটেলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল মালিক, ম্যানেজার ও চক্রের মূল হোতা আব্দুর রহমানসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ ম্যালাইসা ও সান্টু হাওলাদারকে আটক করতে সক্ষম হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী যুবকের মামলার প্রেক্ষিতে আটক দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
