২০০৯-১০ অর্থবছরে সরকারের বৈদেশিক ঋণ ছিল ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ঋণের পরিমাণ পৌঁছায় ৮০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক দশকের কিছু বেশি সময়ে ঋণ প্রায় চার গুণ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ঋণের বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল, ব্যয় বাড়ল, সুফল ঝুলে রইল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হলেও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা সংশোধন করে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ এসেছে দ্বিপক্ষীয় ঋণ থেকে।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আংশিক উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ চালুর লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ভূমিসেবা ও পরিচালনাগত জটিলতা প্রকল্পটিকে আটকে দেয়। এর মধ্যে ঋণের সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়েছে। মূল ঋণের অবকাশকালও কমেছে।
বিশ্বব্যাংক-এর ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের ভাষায়, বিদেশি ঋণের সুদ অর্থ ছাড়ের দিন থেকেই গণনা শুরু হয়। অর্থাৎ প্রকল্প চালু হোক বা না হোক, সুদের ঘড়ি থেমে থাকে না।
ঋণ পরিশোধের চাপে নতুন সমীকরণ
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ০৮৬ বিলিয়ন ডলার। পরিশোধের এই ঊর্ধ্বগতি বাজেট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর মহাপরিচালক এ কে এম এমামুল হক বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ দায় অনেক সময় পূর্বাভাসে প্রতিফলিত হয় না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঋণমান হ্রাসের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো বৈদেশিক ও সামগ্রিক ঋণঝুঁকিতে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে, তবে বড় ধাক্কা সামাল দেয়ার সক্ষমতা সীমিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র, সক্ষমতা আছে, উৎপাদন কম
২০১৪ সালে শুরু হওয়া মাতারবাড়ী ২ গুণ ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৬ হাজার ৬৯৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৭ হাজার ৯৪৫ কোটি ৩ লাখ টাকা বিদেশি ঋণ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হলেও বয়লারের প্রযুক্তিগত সমস্যায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তামিম বলেছেন, প্রত্যাশিত উৎপাদন না হওয়ায় সরকার ক্ষতির মুখে পড়ছে। সক্ষমতা ভাড়া বাবদ বছরে প্রায় ১ হাজার ১৬৯ কোটি টাকাব্যবস্থাপনায় বিশেষ যত্ন নেয়া হয়। বীজ থেকে ফলন পর্যন্ত সময় লাগে মেয়াদ অনুযায়ী কয়েক মাস। আইটি কৃষি ও স্থানীয় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেয়া হয়, যাতে ফসলের গুণমান ও উৎপাদন বাড়ে।
ফুলতলী তরমুজগুলো গেল মৌসুমে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষকরা শুধু গ্রামের বাজারেই নয়, বড় শহরগুলোর বাজারেও সরবরাহ করে জমিয়ে ফেলেছেন ভাল মানের নিরাপদ ফল।
কৃষকদের অভিজ্ঞতা : গ্রামের কৃষক ফোরকানের মতো আরও অনেকে আছেন, যারা তরমুজ চাষকে সফল কৃষি উদ্যোগ হিসেবে স্থাপন করেছেন। তরমুজ চাষতে লাগানো খরচ, পানি ও সার খরচ বিবেচনায় লাভের পরিমাণ অন্যান্য ফসলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
চাষিরা জানান, এর আগে ধান বা অন্যান্য মৌসুমি ফসল থেকে লাভ কম পেতেন। কিন্তু তরমুজ চাষে আয়ের সুযোগ বেশি হওয়ায় নতুন নতুন মানুষও এতে যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষত ধাপে ধাপে তরমুজের বাজার চাহিদার কারণে পারিবারিক আয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অর্থনৈতিক মূল্যায়ন : চালের মতো প্রধান ফসলের পাশাপাশি তরমুজ একটি উচ্চ-মানের পধংয পৎড়ঢ় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, তরমুজের মূল্যায়ন সাধারণত মৌসুমের চাহিদা, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের ওপর নির্ভর করে। এই ফলটি গ্রীষ্মকালে খুব জনপ্রিয়, ফলে বাজারে চাহিদা থাকে বেশি এবং দামও তুলনামূলক ভালো থাকে।
