নির্বাসন থেকে পুনর্গঠন : লন্ডনের সেই ‘রাজনৈতিক পাঠশালা’
২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যখন তিনি জামিনে মুক্তি পান, তখন তার শরীর ভেঙে পড়েছিল নির্যাতনে, কিন্তু মনোবল ছিল ইস্পাতকঠিন। চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। নিন্দুকরা ভেবেছিলেন, এই নির্বাসনই তার রাজনৈতিক জীবনের যবনিকা। কিন্তু তারেক রহমান প্রমাণ করলেন তিনি ছাই থেকে জেগে ওঠা ‘ফিনিক্স পাখি’। লন্ডনের কিংস্টনে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেকে কেবল চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সুদূর আটলান্টিকের ওপার থেকে দলকে পুনর্গঠন করার এক অনন্য পাঠশালা তৈরি করেছিলেন।
২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে বিপুল জনমতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তৃণমূলের আস্থার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন। যখন দেশে বিএনপি দমন-পীড়নের শিকার হয়ে কোণঠাসা, তখন তিনি স্কাইপ আর জুমের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তার এই ‘ভার্চুয়াল নেতৃত্ব’ ছিল তৎকালীন শাসকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক।আস্থার অভিভাবক ও দূরদর্শী রণকৌশল ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করলে দলের নেতৃত্বে যে শূন্যতা তৈরির ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা নস্যাৎ করে দিয়ে তারেক রহমান ‘ভার্ভিং চেয়ারম্যান’ হিসেবে হাল ধরেন।
তিনি প্রমাণ করেন, কেবল রক্তেই নয়, মেধা আর সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনি শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি। সিনিয়র নেতাদের এক সুতোয় বেঁধে রাখা এবং তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীর কাছে ‘আস্থার অভিভাবক’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা সাফল্য।
২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলকে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা আন্দোলনের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বাম-ডান সব মতাদর্শের দলকে ‘এক দফা’র ভিত্তিতে এক প্ল্যাটফর্মে এনে শেখ হাসিনা সরকারকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া ছিল তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয়।
