সহিংসতার অভিযোগ: তদন্ত কমিটি গঠন, শান্ত থাকার আহ্বান নুরের
ফেব্রুয়ারি ১৫ ২০২৬, ১৮:৫৫
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি হামলা ও সংঘর্ষের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, পরাজিত প্রার্থী অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ও গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুর বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, ‘ঘোড়া’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।
নির্বাচন চলাকালে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন হাসান মামুন। তিনি গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দশমিনা ও গলাচিপার কয়েকটি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, এ পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আলতাফ খান। তিনি বলেন, নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে ‘ট্রাক’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, এসব অভিযোগ তদন্তে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন মিয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরাই হামলা চালিয়ে পরে উল্টো অপপ্রচার করছেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, নুরুল হক নুরকে সমর্থন করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি চরবিশ্বাস ইউনিয়নে মহিলা দলের নেত্রী ও এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগও করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অন্যদিকে শনিবার বিকেলে গলাচিপা অফিসার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।
উপজেলা আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নুরুল হক নুরের নির্দেশনা হচ্ছে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকতে হবে। তারা সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে চান।
জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম বলেন, পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নুরুল হক নুর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি প্রতিশোধ ও সংঘাতের রাজনীতি ঘৃণা করেন। তিনি ট্রাক প্রতীকের সমর্থকসহ বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কারও উসকানিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে “ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির নতুন গলাচিপা–দশমিনা” গড়ে তোলা।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, কিছু ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং অনেক ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সংঘাত এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। চর কাজলের একটি মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুটি অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
