প্রার্থী ছাড়া লিফলেট, প্রশ্ন জেগেছে ভোটারদের মাঝে !
ফেব্রুয়ারি ০১ ২০২৬, ০৩:১৬
আরিফ হোসেন ॥
বরিশাল নগরীতে ‘ব্যতিক্রমধর্মী’ নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। শনিবার (৩১ জানুয়ারী) দুপুরের দিকে দলীয় কার্যলয়ের সামনে থেকে বরিশাল মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনের উদ্যোগে নেতাকর্মীরা এই প্রচার চালিয়েছেন। তবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিতরণ করা প্রচারপত্রে কোনো প্রার্থীর নাম ছিল না।
এ নিয়ে নগরীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নগরবাসীর প্রশ্ন বরিশালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী রয়েছে তার পরেও কেন প্রার্থীর ছবি অথবা নাম দেওয়া হলো না! বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির কিছু কর্মীদেও।
নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা মো. মিলন বলেন, “বিএনপি নেত্রী নাসরিন লিফলেট বিতরণ করে ধানের শীষে ভোট চায়। কিন্তু সেখানে কোনো প্রার্থীর নাম নেই। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রয়েছে। লিফলেটে প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের নাম ও ছবি নেই। এটা কোন ধরনের প্রচার?” পাশ থেকে আরেকজন মন্তব্য করেন, এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি আসলে সামনে এসেছে।
নাম প্রকাশে কযেকজন বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, দল থেকে বরিশাল-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এ্যাড. মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিদের্শ দলীয় প্রার্থীকে ভোটে মাধ্যমে বিজয়ী করতে সকলে মিলে মিশে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইবেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাই ঐক্য হয়ে কাজ করতে হবে।
দলীয় নির্দেশকে সবাই সম্মান জানিয়ে বরিশাল বিএনপিতে পূর্বের চলা সকল বিরোধকে ভুলে গিয়ে সবাই এক ব্যানারে এসেছে। শুধু তাই নয় বরিশালে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী দল হিসেবেও পরিনিত করে যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্ধরা সকল বিরোধকে অবসান ঘটিয়ে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের হাতে হাত রেখে ঐক্য হয়ে দলীয় সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও বরিশাল সদর-৫ আসনের বিএনপির অন্যতম প্রার্থী ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। তিনিও দলীয় সকল নিদের্শনা মেনেছে। শুধু তাই নয় রহমাতুল্লাহ মনোনয়ন ঘোষনার পর থেকেই মজিবর রহমান সরোয়ারকে সমর্থন জানিয়ে তার নির্বাচনী সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই তারা ঐক্য হন।
বিএনপির এক নারী নেত্রী নাম প্রকাশ না করে বলেন, বরিশাল সদর আসনে চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির ভোটের সমীকরণ নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে। এই মুহুরে আমাদের নেতাকর্মীদের কাজ হলো সবাই ঐক্য হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। তবে এখন ভোটের মাঠে কোন প্রতিযোগী করার সময় না। তাই আমার সকলে ঐক্য হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীরা পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
কিন্তু শেষ সময়ে মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন তিনি কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে প্রচার চালিয়েছে। তবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিতরণ করা প্রচারপত্রে দলীয় প্রার্থীর নাম অথবা ছবি কিছুই তিনি ব্যবহার করেনি। এতে সাধারন ভোটারদের মাঝে নানা প্রশ্ন জেগে উঠেছে।
নগরজুড়ে তার বিতরন নিয়ে লিফলেট ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নগরবাসীর প্রশ্ন বরিশালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী থাকার পরেও কেন প্রার্থীর ছবি অথবা নাম দেওয়া হলো না! এই প্রচারনা নিয়ে দলীয় কিছু নেতাকর্মীরা মনে করছেন কৌশল অবলম্বন করে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে এই প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
তবে এই প্রচারনায় ভোটে মাঠে কি কোন প্রভাব পড়বে! এ বিষয়ে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, “আমাকে তো কেউ ডাকেনি। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রার্থী নয়, ধানের শীষে ভোট দিতে। তাই আমি ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচার করেছি। শুধু প্রচারই নয়, ধানের শীষে ভোট চেয়ে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিরও পালন করা হচ্ছে।”
এভাবে প্রচারের ফলে দলীয় দ্বন্দ্বে বিষয়টি সামনে এসে পড়েছে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অবশ্যই দ্বন্দ্ব তো রয়েছে। আমি মজলুমের পক্ষে। আমি আমার মত রাজনীতি করি।”
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছেন কিনা আমাদের জানা নেই। যদি করে থাকেন এটার দায়ভার তার নিজের। মহানগর বিএনপি দায়ভার নেবে না।”
