কাজিরহাটে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কা, জনগনের দুর্ভোগে
জানুয়ারি ১৩ ২০২৬, ১৬:১৭
মোঃ জুনায়েত হোসেন,কাজিরহাট ॥ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ৪ নং ওয়ার্ড সন্তোষপুর বাংলাবাজার ও ৫ নং ওয়ার্ড হাজিরহাট বাজারের সংযোগ সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিনের পুরোনো এই সেতুটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার হঠাৎ খালের পানির তোড়ে ধসে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শত শত যানবাহন। পিলারের ভাঙনে আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক আগে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি হঠাৎ করেই সেতুর একটি পিলার খালের পানির সঙ্গে ধুয়ে নিচে পড়ে যায়। এর ফলে সেতুর কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৫ নং ওয়ার্ড থেকে আসা শত শত যানবাহন এখন চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে এই সেতু পারাপার হচ্ছে।
চালক ও স্থানীয়দের বক্তব্য,,সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় গাড়িচালকরা জানান, পিলার ধসে যাওয়ার পর তারা এখন আর কোনো ভারী মালামাল নিয়ে সেতুতে উঠতে পারছেন না। এক চালক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এখন এক প্রকার মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়ার ভয় আছে। যদি এটা পুরোপুরি ধসে যায়, তবে আমাদের এলাকার মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না।
গ্রামবাসী জানিয়েছেন সন্তোষপুর ও আশপাশের এলাকাগুলোর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সেতু। পিলার ধসে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সবার মনে এখন আতঙ্ক ও কষ্ট। তারা জানেন না, সেতুটি আদৌ দ্রুত মেরামত করা হবে কি না। থমকে গেছে পণ্য পরিবহন।
স্থানীয়রা জানান, আসলি সন্তোষপুর থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। কিন্তু বর্তমান অবস্থার কারণে ছোট গাড়িগুলোও ভয়ে ভয়ে চলছে। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে সময় ও খরচ—উভয়ই বাড়ছে। এলাকার মানুষের ভয়, একবার সেতুটি ভেঙে পড়লে কয়েক লক্ষ মানুষ যাতায়াতের অভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি,,সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী ও চালকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। জনস্বার্থে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এই সেতুটির সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
