শেবাচিমে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী‍॥ ফ্লোরে শুয়ে‍ই নিতে হয় চিকিৎসা

ডিসেম্বর ২৭ ২০২৫, ২২:৫৮

আমার বরিশাল ডেস্ক,

আরিফ হোসেন ॥ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর একমাত্র চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শীতকালীন ঠান্ডাজনিত রোগী ও শিশু রোগী সংখ্যার বেড়েই চলছে। তবে আক্রান্তর বেশির ভাগই শিশু। তাই শিশু ওয়ার্ডটিতে রোগীর চাপ কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বেড সংকট। এদিকে বেড়ে ঠান্ডা অন্য সেই ঠান্ডার মধ্যে হাসপাতালের ফ্লোরে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে শীত বেড়ে যাওয়ার কারনে হাসপাতালে প্রতিদিনই ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। শুধু তাই নয় শীতের প্রকোপ শুরুতেই হাসপাতালে বাড়তে শুরু করেছে নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা।

তবে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েক গুন বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এক বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশুকে। অন্যদিকে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তব্যরত নাস ও চিকিৎসকদের। তবে বেট সংকট থাকলেও সঠিক ভাবে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দুটি শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ অনেকা বেড়েছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১ শয্যার বিপরিতে ভর্তি রয়েছে প্রায় আড়াই শ’ শিশু রোগী। আর দুটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত দেড় শতাধিকের চেয়ে বেশি রোগী। একই চিত্র দেখা গেছে হাসপাতালের বহিঃ বিভাগেও। সেখানেও প্রতিদিন রোগীদের ভিড় বাড়ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। হাসপাতালের বর্হিবিভাগে পাঁচজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য। সেখানে অধিকাংশ রোগীই বরিশাল শহরের বাহির থেকে আসা।

এর মধ্যে কেউ কেউ শিশুর জ্বর ও ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে খাইয়েছেন। কিন্তু সুস্থ না হওয়ার কারনে শেবাচিম হাসপাতালে এসেছে ডাক্তার দেখাতে। চিকিৎসক অসুস্থ শিশু রোগীদের মধ্যে যেসমস্ত শিশুকে গুরুত্বর মনে করছেন তাদের হাসপাতালের ভর্তি দিচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনেরা বলছেন, শীত বারার সাথে সাথে পেটে ব্যথ্যা, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন কলি বেগম বলেন, প্রথমে গ্রামে ডাক্তার দেখাই। জ্বর কমে বাড়ে।

পরে বরিশাল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে পরিক্ষা পর জানা যায় বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় দূর্ভোগে পরেছেন অনেকেই। তারা এক বেডে দুই থেকে তিন জন রোগী ভর্তি থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরেক রোগীর স্বজন ছনিয়া আক্তার তিনি বলেন, বাড়ির সামনের ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি না কমায় বরিশাল বড় হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এখানে আসার পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া। এখন চিকিৎসা চলছে। এরকমের অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে এসেছে জ্বর, কাশি,ছদি, বুকে ব্যাথা সহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আন্ত-ওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে সরকারি খোলার দিন চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে ৫০০ এর অধিক শিশু।

এদের মধ্যে এখন বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন। অনেকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। আগের তুলনায় দেড়গুণ রোগী বেড়েছে বলছেন চিকিৎসকরা। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মো. নুরুল আলম বলেন, ঠান্ডা সিজনে হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বেড়ে থাকে।

তবে এবছর শীত শুরু থেকেই রোগীর সংখ্যা অনেকটা বেশি। এধরনের রোগী সামনে আরো বাড়বে। এছাড়া মা তার সন্তানকে যে কাপর দিয়ে ঢেকে রাখে তাতে ঘাম থেকেও শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর বাসসকে বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম।

তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের চেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় নার্সদের। চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে আমরা কথা বলছি। বহির্বিভাগেও চিকিৎসক কম। তবে সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই সময়ে সকল অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ তার। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনেই ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রামণ বাড়ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

সচেতনতা বাড়ালে ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিলে ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রমণ কমবে বলে মনে করেন তারা। এদিকে, গত তিনদিন ধরে বরিশালে ঘন কুয়াশার পাশাপাশি আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের স্থায়ীত্ব বেশি সময় না থাকায় হাড় কাপানো শীত পড়ছে।

বরিশালের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার বরিশালের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত তিন দিন ধরে একই অবস্থায় চলছে।

চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দিনে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সুর্যের দেখা মিলছে। সূর্যের স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ না থাকার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....