অসহায়দের স্বাবলম্বী করে যাচ্ছে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’
নভেম্বর ২২ ২০২৫, ২৩:৫১
আরিফ হোসেন ॥ দরিদ্র মানুষকে আর্থিক সহায়তা, অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলা, অসহায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অর্থিক সহযোগীতা, সমাজে অবহেলিত বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশে দাড়ানো, ভিক্ষুককে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী করে তোলা, অপরাধীদের ভালো পথে আনার এবং মাদকাশক্ত পূর্নবাসন কেন্দ্র চিকিৎসা করে সুস্থ জীবনে ফিরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সহ কয়েক শতাধিক মানবিক কাজ করে ইতি মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইভেন্ট ৮৪’।
শুধু তাই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইভেন্ট ৮৪’ আহ্বায়ক এবং বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ তিনি মানবিক কাজ গুলো করে নগরবাসীর কাছে প্রশাংসায় ভাসছেন। অসহায় ব্যক্তিদের কাছে মনে হয় তিনি একজন দরবেশ। তাদের সাহায্য করার জন্যই মহান আল্লাহতালা তাকে পাঠিয়েছে।
‘ইভেন্ট ৮৪’ গ্রুপটি গত এক সপ্তাহে সমাজের অবহেলিত বেশ কয়েকজন বয়স্ক মানুষের সহায়তা করেছেন। তাদের চিকিৎসা সহায়তা, বৃদ্ধাশ্রমে সহায়তা অনুদান, তাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস কিনে দেওয়া , হুইল চেয়ার অনুদান,খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা,ওয়েল পেপার বেড দিয়েছেন।
পিতৃ-মাতৃ পরিচয় হীন অসহায় শিশু খাদিজা। তাকে জন্মের পর তার বাবা-মা ফেলে চলে যান। পরে খাজিদা নানা নানীর কাছে বড় হয়। নানা নানীর আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় কষ্ঠে জীবন-যাপন করতে থাকেন। খবরটি শুণে খাদিজার ভাগ্য বদলে দিলেন ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ। খাদিজার মুখ দেখে পুরো ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ পরিবার তাদের সামর্থ অনুযায়ী খাদিজার মৌলিক চাহিদা পুরণের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। এক বছর ধরে তার যাবতীয় খরচ বহন করে যাচ্ছে গ্রুপটি। খাদিজাকে নিয়ে ৮৪ ইভেন্ট পরিবারের রয়েছে অনেক স্বপ্ন,অনেক আশা। খাদিজাকে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত নারী হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় বরিশালের ডায়াবেটিক হাসপাতালে অসহায় সোহেল ও লামিয়া দম্পত জীবনে এক সঙ্গে পাঁচটি নবজাতক জন্মগ্রহন করেন।
তবে এক সঙ্গে জমক ৫ সন্তান জন্মের পর তাদের চিকিৎসা খরচ করাতে এবং তাদের যাবতীয় খরচ ব্যায় নিয়ে দুচিন্তায় পড়েন দিন মজুর সোহেল। কি ভাবে তাদের চিকিৎসা খরচ চালাবে তা ভেবে কোন সমাধান না পাচ্ছিলেন না। হঠাৎ হাসপাতালে তাদের দেখতে যান ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপের আহ্বায়ক সাজ্জাদ পারভেজের। পরে তার কাছে তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে বাউফল উপজেলার সোহেল। তাদের সংসারের অবস্থা কতটা খারাপ অবস্থায় ছিলো তা ইভেন্ট গ্রুপের সাজ্জাদ দেখে বুঝতে পারেন। পরে তিনি নবজাতক সন্তানের জন্য ‘৮৪ ইভেন্ট’-এর পক্ষ থেকে একটি গরু উপহার দেন।
গত রবিবার ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপের পক্ষ থেকে অসহায় লাল মিয়াকে একটি নতুন রিকশা উপহার দেওয়া হয়। শুধু তাই উপহার দেওয়া রিক্সার টিতে প্রথম যাত্রী ছিলেন মানবিক সাজ্জাদ পারভেজ ও তার ভাগ্নী।
সংসারে স্ত্রীর মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশালে তিন অসহায় নারীর স্বামীদের আয় পথ হিসেবে প্যাডেল চালিত তিনটি রিকশা উপহার দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইভেন্ট ৮৪। যা বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যামে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে তাদের মাঝে তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়াও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেনো থেমে যায় প্যারালাইসিসে আক্রান্ত, শরীরের অর্ধেকটাই অচল এক বৃদ্ধের। তার পরেও তিনি সংসারের পাঁচজন সদস্য তারা তাদের মুখে খাবার পাওয়ার জন্য তাকিয়ে রয়েছে বৃদ্ধের দিকে।
সেই বৃদ্ধটির গ্রামের বাড়ি রাজাপুরে। সংসারের সকল সদস্যদের গ্রামেই রেখে চার বছর আগে জীবিকার টানে চলে আসেন বরিশালে। প্রতিদিন সদর রোডের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে মানুষজনের হাতে পেতে যে টাকা পায় তা দিয়েই চলে তার সংসার। খবর পেয়ে ছুটে যান সাজ্জাদ পারভেজ। তার জীবন যুদ্ধের কথা শুনে তাকে চলাচলের সুবিধার জন্য তিন চাকার একটি (হুইলচেয়ার ভ্যান) কিনে দেন ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপের পক্ষ থেকে।
এছাড়াও যেমন মানুষের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া দুই তরুণী এবং মাদকাসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানো এক যুবককে সুস্থ করে উপার্জনের পথ দেখিয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইভেন্ট ৮৪’।
শুধু তাদেরই নয়, সংগঠনটি বরিশাল নগর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হতদরিদ্র মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছেন ‘ইভেন্ট ৮৪ গ্রুপটির আহ্বায়ক সাজ্জাদ পারভেজ।
ইতোমধ্যে সংগঠনটি অসংখ্য অসহায় নারী-পুরুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সহায়তা করছে, যা নগরবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
