খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি
অক্টোবর ১৬ ২০২৫, ১৭:১১
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৫ উপলক্ষে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি এবং প্রান্তজন, বাংলাদেশের সকল মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বরিশাল কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার থেকে র্যালী করে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও, এটি এখনো মৌলিক অধিকারের মর্যাদা পায়নি। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদে খাদ্যকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, তা বাস্তবায়নে কোনো আইনি কাঠামো নেই। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রণীত ‘ভলেন্টারি গাইডলাইন অন দ্য রাইট টু ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন’ অনুসরণ করে ব্রাজিল, ভারত, নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশ খাদ্য অধিকার বিষয়ক আইন বা সাংবিধানিক বিধান গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও ২০০৮ সাল থেকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই আইনের দাবি জানানো হচ্ছে।
র্যালী পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, খানি বাংলাদেশ মনে করে, খাদ্য অধিকার মানুষের বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত এবং অন্যান্য মানবাধিকার পূরণের সাথে এর সুরক্ষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে উপকূল, চর, পাহাড় ও হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির মাত্রা তীব্র।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭টি দেশের মধ্যে ৮৪তম, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে।
এছাড়া, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জনজীবনে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো জনগণের খাদ্য অধিকারকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য “উন্নত খাদ্য এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য হাতে হাত রেখে” অনুসরণ করে খানি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে একটি খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এমন একটি আইনি কাঠামো প্রণীত হলে খাদ্য উৎপাদন, বিতরণ এবং প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট হবে এবং সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্মারকলিপিটি হস্তান্তরকালে খানি বাংলাদেশের স্থানীয় কার্যকর সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি শুভংকর চক্রবর্তী, রনজিৎ দত্ত, সুভাষ দাস, আক্তারুল কবির, এটিএম খোরশেদ আলম, অধক্ষ্য আমিনুর রহমান খোকন, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি, যুব, ছাত্র, সাংবদিক উপস্থিত ছিলেন।
