বাকেরগঞ্জে জাল সনদ দিয়ে কমিটির সভাপতি ॥ শিক্ষাবোর্ডের নোটিশ

জুলাই ১৩ ২০২৫, ২৩:৪০

আমার বরিশাল ডেস্ক,

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের ৪ মাস পর সনদ জালিয়াতির অভিযোগে সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২ নং চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির ১ নং যুগ্ন-আহ্বায়ক মোঃ সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিবিএ’র ভুয়া জাল সনদ জমা দিয়ে ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদ বাগিয়ে নেয়ার ঘটনায় বিতর্কিত কমিটি বাতিল চেয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছিলেন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকা মহানগর (দক্ষিন) যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও মোঃ সোহাগ হাওলাদার এডহক কমিটির সভাপতির পদ পেতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ঢাকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র যে সনদ জমা দিয়েছেন সেই সনদের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন আকারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে রেজিষ্টারের কাছে আবেদন জানায়।

যুবদল নেতার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত -২৩ জুন দারুণ ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রফেসর মোহাম্মদ মহসীন ভূঁইঞা বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মোঃ সোহাগ হাওলাদারের সনদ জাচাই করে কোন সত্যতা পায়নি।তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন মোঃসোহাগ হাওলাদারের ভুয়া সনদের নীচে যে ওয়েব সাইট দেয়া আছে (িি.িফরঁ২৯.পড়স) যাহা জনৈক সনদ ব্যবসায়ী, জাল-জালিয়াতি চক্রের হোতা চোর-মোঃ মাহমুদ কর্তৃক ইস্যুকৃত, যাহাকে সনদ জালিয়াতির দায়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কর্তৃপক্ষ উপ-পরিচালকের পদ হতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম হতে বহিঃস্কার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ে ও ইউ জি সি পত্র প্রেরনের মাধ্যমে অবগতি করানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরাদী এর এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ সোহাগ হাওলাদার বিরুদ্ধে ভুয়া জাল-জালিয়াতি সনদ জমা দেয়ার অভিযোগ ও সনদটি যে জাল সেবিষয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দেয়া প্রতিবেদন আমি হাতে পেয়েছি। আমি বিদ্যালয় পরিদর্শকের সাথে কথা বলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ সোহাগ হাওলাদারকে মূল সনদ নিয়ে বোর্ডে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এক্ষেত্রে সে যদি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এডহক কমিটি বাতিল সহ তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আরো বলেন প্রাথমিকভাবে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা প্রশাসক দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। যদি সেখান থেকে যাচাই করা হতো তাহলে জালিয়াতির মাধ্যমে সোহাগ হাওলাদার সভাপতি হতে পারতেন না। এ বিষয়ে ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরাদী’র প্রধান শিক্ষক মোঃআনিচুর রহমান বলেন,স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সভাপতি পদে মোঃ সোহাগ হাওলাদারের নাম প্রস্তাব করেছিল। সে আমাদের স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। আমি বিধি মোতাবেক সোহাগ হাওলাদার সহ অন্যান্য প্রার্থীদের দেয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি।

ব্যস্ততার কারণে সোহাগ হাওলাদারের সনদ যাচাইয়ের সুযোগ হয়নি। সে যদি জালিয়াতি সনদ দিয়ে থাকে তাহলে সে অপরাধ করেছে। সনদ জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরাদী’র এডহক হক কমিটির সভাপতি মাোঃসোহাগ হাওলাদার বলেন, আমি বিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে বিরোধীপক্ষ ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করছে। আমি শিক্ষা বোর্ডের কারণ দর্শানোর চিঠি হাতে পেয়েছি।যা বলার শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বলব।

সংবাদটি শেয়ার করুন....