ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল, মুচলেকা নিয়ে ছাড়লো ছাত্রলীগ কর্মীকে

ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০২৫, ২৩:১৯

আমার বরিশাল ডেস্ক,
ভোলা প্রতিনিধি ‍॥  ভোলার চরফ্যাশনে যুবতীর ধর্ষণ ও ভয়তীতি দেখানোর দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৪ নেতা-কর্মী কর্তৃক ধর্ষণকান্ডের এক বছর পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকালে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে ঢালচর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ শরীফ নামে একজনকে আটক করেছে। ওই তরুণকে দিনভর ঢালচর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রেখে রাত ১১টায় স্থানীয় নেতাদের অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়। ওই তরুণের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই ইউনিয়নজুড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে চার তরুণ ও ভিক্টিম যুবতীর কথোপকথনে দেখা যায়, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই যুবতীকে নিবির নামের এক তরুণ নির্জন স্থানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। প্রেমিক নিবিরকেসহ ওই যুবতীকে অপর ৩ তরুণ তাদেরকে থানা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই যুগলকে আটক করেন। তারা যুবতীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। তারপর ৪ জন সংঘবদ্ধ ভাবে যুবতীকে ধর্ষণ করে। যুবতী ধর্ষকদের হাত-পা ধরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। গত শুক্রবার ধর্ষক শরীফের ফেসবুক থেকে ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়।

স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, ভিক্টিম যুবতীর বাড়ি ঢালচর ইউনিয়নে এবং তার বাবা একজন মৎস্যজীবী। অপরদিকে ধর্ষকদের বাড়িও ঢালচর ইউনিয়নে এবং তার সবাই তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মী। ভিডিওতে যে ৪ ধর্ষককে সনাক্ত করা যায় তাদের মধ্যে শরীফ ঢালচরের ৬নং ওয়ার্ডের নূরে আলমের ছেলে, নিবির ৬নং ওয়ার্ডের এলাহী মেম্বারের ছেলে, মনির ৬নং ওয়ার্ডের গনি মাঝির ছেলে এবং আকতার ৬নং ওয়ার্ডের আলউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ অভিযুক্ত ওই তরুণদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আটককৃত তরুণকে উল্টো ছেড়ে দিয়েছে। এতে অপরাধ প্রবনতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

অভিযুক্ত ওই তরুণ শরীফের বাবা নুরে আলম জানান, একটি ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট করার দায়ে তার ছেলেকে পুলিশ আটক করেন। পরে তার ফেসবুকে ওই ভিডিও না পেয়ে তাকে রাতে ছেড়ে দেন থানা পুলিশ।

ঢালচর ফাঁড়ি ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, আমি ভোলা সদরে থাকায় বিষয়টি সঠিক বলতে পারছিনা। ফাঁড়িতে এসআই সোহেল রয়েছে তার কাছ থেকে জেনে পরে জানাতে পারবো। তবে অনৈতিক লেনদেন এসব বিষয়ে আমার জানা নাই।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. এরশাদুল হক ভূইয়া জানান, এইভিডিওটি অনেক পূর্বের বলে জানতে পেরেছি। ভিক্টিম যুবতীর কোন হদিস নেই। আটককৃত ওই তরুণের ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিওটি পাওয়া যায়নি তাই তাকে মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....