বিএনপির দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা মেজবাউদ্দিন ফরহাদ

নভেম্বর ২৫ ২০২৪, ২১:০৬

আমার বরিশাল ডেস্ক,

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিএনপিতে নেতাকর্মী বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু দুঃসময়ে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যারা রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন তাদের মধ্যে একজন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। গত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলা, এমনকি মৃত্যুর মুখ থেকেও ফিরে আসেন বহুবার। এ কারণেই দলের নিবেদিত প্রাণ মেজবাউদ্দিন ফরহাদের ওপর ভরসা রাখতে চান হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাবাসী।

মেজবাউদ্দিন ফরহাদ ছিলেন বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বহু বছর। বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ‘১৯৬৩ সালের ২৫ আগস্ট বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাধীন আলীমাবাদ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। তাঁর বাবা আলহাজ্ব কাজী আক্তারুজ্জামান ও মা আলহাজ্ব নূর জাহান বেগম।

গ্রামের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হলেও শিশু-কিশোরকাল কেটেছে বরিশাল শহরে। ১৯৭৮ সালে বরিশাল উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন ফরহাদ। ১৯৮০ সালে সরকারি বরিশাল কলেজ এবং ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক এবং ১৯৮৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেছিলেন তিনি। সেই থেকে হয়ে ওঠেন একজন দক্ষ সংগঠক।

১৯৭৯ সালের কাউন্সিলে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। ১৯৮৪ সালে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ছাত্র রাজনীর দূরদর্শিতার পুরস্কার হিসেবে ১৯৯২ ও ৯৩ সালে রেজভী-ইলিয়াস এবং মিলন-আলম এর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে পর পর দুইবার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে মূল দলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০১০ সালে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। তাছাড়া পর পর দুইবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হন তিনি। বর্তমানেও ওই পদে রয়েছেন ফরহাদ।

এদিকে, ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ফরহাদ। সেই নির্বাচনে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে মাত্র দু’জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ এবং অপরজন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। সুস্থ ধারার রাজনীতিবীদ মেজবার কাছে ৯৮ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে ভরাডুবি হয়েছিল দুই বারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের হেবিওয়েট প্রার্থী মঈদুল ইসলামের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। ওই নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলও করেন তিনি। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক বৃহৎ স্বার্থে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন ফরহাদ। তখন জোটের প্রার্থী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। নারকিয় হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন বহুবার।

১৯৯৪ সালে ঢাকায় ছাত্রদলের মিছিলে হামলা করেছিল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। সেই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। তাছাড়া ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার আমলেও হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সেসময় টানা ১২০ দিন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরও হামলা-মামলার শিকার হন ফরহাদ। সেসময় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার পথে অতর্কিত গুলি এবং বোমা হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে ফিরলেও আহত হন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী।

তাছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধেও রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন মেজবাউদ্দিন ফরহদা। গ্রেফতার এড়াতে উত্তর জেলা বিএনপির পদধারী নেতারা যখন হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তখনও নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট হাতে ছুটেছেন ভোটারদের কাছে।

শুধু রাজনীতি নয়, এর পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী মেজবাউদ্দিন ফরহাদ। তিনি পরিচালনা করছেন নৌ-পরিবহন, প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ রাজনীতিতে ব্যয় করছেন জ্যেষ্ঠ নেতা ফরহাদ। এমনকি ৫ আগস্টের আগে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান ফরহাদ। এ কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে ফরহাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চান দলের সিংহভাগ নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনতা।

আলাপকালে মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সাবেক রাষ্ট্রপতি জনাব জিয়াউর রহমানের আদর্শের কর্মী হিসেবে দলকে সুসংগঠিত রাখার। সেটা করতে গিয়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও দলকে সুসংগঠিত করে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমার প্রত্যাশা।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়নে সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজমুক্ত একটি সমাজ গঠনে কাজ করে যাবো। দল যদি যোগ্য মনে করে আগামী নির্বাচনে আমাকে বরিশাল-৪ আসনে পুনরায় মনোনয়ন দেয় তবে, বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দলের সম্মান অক্ষুন্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....