ফয়সাল হাওলাদার,মেহেন্দিগঞ্জ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মেহেন্দিগঞ্জের শহীদ মোঃ শাওন। স্বৈরশাসক পতনের লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এক হয়ে এক কঠোর আন্দোলনের ডাক এয়, যা পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচয় পায়।
উক্ত আন্দোলনে মেহেন্দিগঞ্জের গর্ব উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের ০৯নং পানবাড়িয়া ইউনিয়নের জাকির খানের একমাত্র ছেলে মোঃ শাওন।
শহীদ শাওনের পরিবারের সাথে দেখা ও সৌজন্যে সাক্ষাত করতে বরিশাল জেলা থেকে ছুটে আসেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু।
পরবর্তীতে শাওনের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং পরিবার কে আশ্বস্ত করা হয় যে, যেকোনো বিপদাপদে পাশে থাকবেন এবং সার্বিক দেখভাল করবেন।
এছাড়াও পূর্বের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, সালাউদ্দিন পিপলু একজন কর্মীবান্ধব নেতা এবং জনগণের দোরগোড়ায় আন্তরিকতা ও ভালোবাসা পৌছে দেওয়ার নিদর্শন অহরহ পাওয়া যায়।
শহীদ শাওনের বাবার সাথে আলাপকালে এই প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলে আন্দোলনে গিয়া মারা গেছে, তখন খুব কষ্ট পাইছি। কিন্তু যখন জানতে পারছি আমার পোলা দ্যাশের জন্য প্রাণ দিয়া শহীদ হইছে, তখন গর্বে বুক ফুইল্লা উঠছে, মেহেন্দিগঞ্জে আমার পোলায় একমাত্র শহীদ। আর তাছাড়া বরিশাল জেলা থেকে আমাগো বড়ো নেতা সালাউদ্দিন পিপলু ভাই আসছে আমাগো বাড়ি, আমার দেখভাল করতেছে এবং সবাইরে বইল্লা গেছে আমার খোজ খবর নেওয়ার জন্য। এর থেকে আমার আর কিছু দরকার নাই। আমার পোলা শহীদ, আমি শহীদ শাওনের বাবা। এটাই আমার গর্ব।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু বলেন, দেশে স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে, এর জন্য দেশের হাজারো ছাত্র ও যুবকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং আমাদের মেহেন্দিগঞ্জের গর্ব শাওন এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, যা আমরা কখনও ভূলবো না।
ওই দেশে নতুন করে আর কোম অরাজকতা চাই না, আমরা দেশে শান্তি চাই, দেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে থাকতে চাই। এবং শহীদ শাওনের পরিবারের পাশে সর্বদা ছায়ার মত থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও সালাউদ্দিন পিপলু মাস্টার হাট বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মেহেন্দিগঞ্জ আমাদের, এই দেশ আমাদের, এই এলাকা আমাদের, এখানে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলে আমাদের জানাবেন। সকলে নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসার জন্য বলেছেন। এবং যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান সালাউদ্দিন পিপলু।
পরবর্তীতে মেহেন্দিগঞ্জের পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দির কমিটিকে আশ্বস্ত করেন যে, কোন ধরনের অরাজকতার হবে না ইনশাআল্লাহ এবং মেহেন্দিগঞ্জে কোন সহিংসতা হবে না। যদি এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও শাওনের পরিবারেরবম সাথে দেখা করার সম্প্য আরো উপস্থিত ছিলেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সৈয়দ নাঈম ইসলাম তুহিন, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম পারভেজ খন্দকার, পৌর যুবদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মামুন মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত সোহাগ ও সম্পাদক জুবায়ের মাহমুদ,পৌর ছাত্রদল সভাপতি তরিকুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এমাজউদ্দীন রাজু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সিপন,উত্তর ও দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সকল স্তরের লোকজন।