দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্র অচল
ডিসেম্বর ১২ ২০২৩, ১৭:৫৩
ডেস্ক প্রতিবেদক ॥ একযুগ ধরে অচল রয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রটি (সিসমোগ্রাফ)। ফলে কোনো ভূকম্পন হলে এ যন্ত্র দিয়ে তার মাত্রা নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে না।
এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিসমোগ্রাফ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়।
স্থাপনের পর যন্ত্রটি দিয়ে মাত্র দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয় করেন কর্তৃপক্ষ। এরপরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে যন্ত্রটি। ২০১০ সালের অক্টোবরে রক্ষণাবেক্ষণে আওতায় এনে একাডেমিক ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বারের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগসহ যন্ত্রটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর কিছুদিনের মধ্যেই ২০১১ সালের জানুয়ারিতে যন্ত্রটিতে সমস্যা দেখা দেয়।
বরাদ্দ না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অভাবে যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর। ফলে এটি থেকে কোনো কিছু শিখতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরনো ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রটি ঠিক করা হোক অথবা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ডিজিটাল একটি যন্ত্র বসানো হোক। যার মাধ্যমে আমরা শিখতে পারবো এবং আমরা আমাদের কর্মস্থলে গিয়ে শেখাতে পারবো।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ডিন মো. নুরুল আমিন বলেন, এটি অতি পুরাতন একটি অ্যানালক মেশিন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল মেশিন বের হয়েছে। মূলত এটি সচল রাখতে যে অর্থ দরকার সেটি না থাকায় যন্ত্রটি সচল রাখা সম্ভব হয়নি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আল মামুন হোসেন বলেন, যন্ত্রটি প্রজেক্টের আওতায় যতদিন ছিলো, ভালো ছিল। প্রজেক্ট বন্ধ হওয়ার কারণে ফান্ডিং না থাকায় এটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ছোট ছোট ভূমিকম্প থেকে কিন্তু বড় বড় ভূমিকম্প হয় সেখান থেকে আমরা যদি আগে থেকে উৎপত্তি স্থল নির্ণয় করতে পারি ভালো হয়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস- চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, পুরাতন যন্ত্রটি মেরামত বা অপসারণ করে নতুন আধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হলে তা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় কাজে আসবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দ্রুত সঠিক তথ্য পাবেন।
