মনপুরায় টক দই খেয়ে ৩২ জন হাসপাতালে
ডিসেম্বর ০৯ ২০২৩, ১৮:৫১
ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলার মনপুরায় মহিষের দুধের টক দই খেয়ে শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ৩২ জনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাত থেকে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা পর্যন্ত ৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান তামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অসুস্থদের মাঝে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মহিদুল ইসলাম, খাদিজা, ছামিউল, মাইসা, ছাওদা, ফারহানা, ইয়ামিন, আমেনা, ছালেকা খাতুন, জুমুর, ছুমাইয়া, রকি, আলাউদ্দিন, আফিফা, রিয়াজ, অফি, রিক্তা, হান্নান, নুশরাত, ময়ফুল, জহীর, মুজাহিদুল ইসলাম, রাশেদ, তানিয়া, তাহমিনা, মিষ্টি ও মনির। এছাড়া বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন যুবলীগ সভাপতি ও হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা যুবলীগ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মামুন, ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা আবদুল মতিন মাতাব্বর, সাখাওয়াত, হোসেন, আলাউদ্দিন, খোকন, শামীম, খোরশেদ, রাসেল, সুমন ও সাহাবুদ্দিন। অসুস্থ বাকিদের নাম জানা যায়নি। অসুস্থদের বাড়ি হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর, চরফৈজুদ্দিন, চর যতিন ও দাসের হাট এলাকায়। এ গ্রামগুলো পাশাপাশি।
আহতরা জানায়, শুক্রবার রাতে মহিষের দুধের তৈরি কাঁচা টক দই খাওয়ার পরই তাদের পেটে ভীষণ ব্যথা শুরু হয়। পরে ডায়রিয়া শুরুর পাশাপাশি প্রচণ্ড জ্বর অনুভূত হয়। এ অবস্থায় হাসপাতাল গেলে স্যালাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেন ডাক্তাররা।
ডা. খালিদ হাসান তামিম জানান, টক দইয়ে বিষাক্ত জীবাণু ছিল। সেই বিষাক্ত জীবাণু মিশ্রিত দই খেয়ে সবার ডায়রিয়া ও জ্বর হয়েছে। যাদের অবস্থা খারাপ ছিল তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে ভয়ের কিছু নেই, অসুস্থ সবাইকে আশঙ্কামুক্ত। খিচুনির কারণে একজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সবাই মহিষের দুধের টক দই খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন। একই স্থান থেকে দইগুলো কেনা হয়েছে। তবে খেয়েছেন আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান ও বাড়িতে।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা শুনে রাতে হাসপাতালে রোগীদের দেখতে যাই। টক দই খেয়ে সবার এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। টক দই কারিগরদের ডেকে বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ।’
শনিবার সকালে অসুস্থদের দেখতে হাসপাতালে যান মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, মহিষের দুধের কাঁচা টক দই ভোলার মানুষের একটি জনপ্রিয় খাবার। জেলার ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে এ দই দিয়ে। অতিথি আপ্যায়নসহ ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছেও এটি প্রসিদ্ধ খাবার হিসাবে পরিচিত। শত বছর ধরে এ দই খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি।
