পটুয়াখালীতে মৌসুমে কোটি টাকার নোনা ইলিশ বিক্রি

নভেম্বর ১১ ২০২৩, ১৭:৫৬

আমার বরিশাল ডেস্ক,

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ‍॥ বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে ফেরার পথে বরফ ও মাছের চাপে কিছু সংখ্যক মাছ নরম হয়ে যায়। একশ্রেণির ব্যবসায়ী অল্পমূল্যে এই মাছ কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে থাকেন। যা বাজারে নোনা ইলিশ হিসেবে বিক্রি হয়। তিন মাসের প্রতি মৌসুমে প্রায় কোটি টাকার নোনা ইলিশ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

নোনা ইলিশ প্রস্তুতকারী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, নোনা ইলিশের চাহিদা চট্টগ্রামে বেশি। তাই মাছগুলো প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

আরেক নোনা ইলিশ প্রস্তুতকারী মো. হাবিব জানান, নোনা ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করার সময় প্রথমে ইলিশের পেট থেকে ডিম আলাদা করে ফেলা হয়। এরপর ইলিশ মাছটি ফালি ফালি করে কেটে ভালোভাবে লবণ দেওয়া হয়। লবণ দিয়ে ৩ থেকে ৪ দিন রেখে দেওয়া হয়। সবশেষে লবণ মেশানো ড্রামে রেখে সেটি সংরক্ষণ করা হয়।

তিনি বলেন, তিন মাসের মৌসুমে নোনা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই মাছের চাহিদা রয়েছে। এতে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটার স্থানীয় জেলে সোহেল বলেন, একসময় নরম ইলিশগুলো বাজারে চাহিদা না থাকার কারণে ফেলে দিতে হতো। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা নোনা ইলিশ করায় এই ইলিশের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আর কোনো মাছ ফেলনা নয়। এতে আর্থিকভাবে যে ক্ষতিতে পড়তে হতো এখন আর জেলেদের সেটিতে পড়তে হচ্ছে না। তারা সকল জায়গা থেকে লাভবান।

স্থানীয় সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ভালোভাবে প্রস্তুত ও ব্র্যান্ডিং করা গেলে এই ইলিশ বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অঞ্চলভেদে খাদ্যাভাসে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও তাজা ইলিশ আবার কোথাও নোনা ইলিশ পছন্দ করে। নোনা ইলিশ বিক্রি করায় রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। এটি জাতে আরও ভালোভাবে প্রসেস করে সরবরাহ করতে পারে তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....