ভোলা হাসপাতালে ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ২ শতাধিক
নভেম্বর ০৭ ২০২৩, ১৮:২৩
ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলায় শীতের আগেই বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এ ছাড়া হঠাৎ করে রোগীর চাপ বাড়ায় জেলার সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন দুই শতাধিক রোগী।
অসুস্থ সন্তানকে সুস্থ করতে অভিভাবকরা সিঁড়ি-লিফটের গোড়ায় কাঁথা-বালিশ বিছিয়ে কোনোমতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় জনবল, শয্যা এবং ওষুধ সংকটে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
অনেকেই হাসপাতালের সিঁড়ি, মেঝেতে, লিফটের গোড়ায় ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২০ শয্যার ওয়ার্ড। রোগীর চাপ বেশি থাকায় কর্তৃপক্ষ সেখানে ৬৪টি খাট বসিয়েও সামাল দিতে পারছেন না।
এক খাটে ৩/৪ জন করে রোগী। ওয়ার্ডের বারান্দা, চলাচলের পথ, সিঁড়ি এমনকি লিফটের সামনেও রাখা হয়েছে শিশু রোগীদের। এতে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বা-মাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোগীর কারণে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না স্বাস্থ্য সুরক্ষা। কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ২০৩ রোগীর মধ্যে ১৯১ জন ছিল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
স্ক্যানোতে ভর্তি ছিল ৩৪ ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৯ জন। নিউমোনিয়ায় সংক্রমিত ১৯১ জন শিশুর জন্য আছে মাত্র দুটি নেবুলাইজার। তারওপর শয্যা, নার্স, চিকিৎসকের সংকটতো রয়েছেই। জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার কথা জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মু. মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে কিছুদিন ধরে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে শীত শুরু হলে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্টার আবদুল মজিদ শাকিল বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হবে। এ সময় যেন শিশুদের ঠান্ডা কম লাগে সেদিকে সর্তক থাকতে হবে।
এ ছাড়া জটিলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাত্র একজন কনসালটেন্ট ও একজন সহকারী রেজিস্টার দিয়ে ভোলার আড়াইশো শয্যা হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক শিশু রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
