শান্তি সমাবেশে হামলার শিকার কুয়াকাটা পৌর মেয়র
নভেম্বর ০৩ ২০২৩, ১৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বিএনপি জামাতের সন্ত্রাস,অরাজকতা ও অবরোধের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় কুয়াকাটার পর্যটন মোটেল ইয়ুথ-ইন কমপ্লেক্সে সমাবেশ স্থলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় সাংসদ মহিববুর রহমান সহ কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় মেয়রপন্থী ১০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতক্ষ্যদশীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যর সাথে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে আসলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের রোষানলে পরেন পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। এ সময় ধাওয়া খেয়ে সভাস্থল ত্যগ করে একটি ঔষধের দোকানের সামনে গিয়ে দাড়ালে সেখানে আবারো উত্তেজিত নেতাকর্মীদের ধাওয়ার শিকার হয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আশ্রয় নেন। পরে মহিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌর মেয়রকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার জন্য কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লাকে দায়ি করার পাশিপাশি সাংসদ মহিববুর রহমানকেও দোষারোপ করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে কুয়াকাটায় শান্তি সমাবেশ হচ্ছে। শান্তি সমাবেশে যোগ দেয়ার ব্যাপারে আমি পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি বারেক মোল্লাকে ফোন করলে তিনি আমাকে শান্তি সমাবেশে যেতে বারন করে বলেন শান্তি সমাবেশে গেলে তার দলের ছেলেরা আমাকে চাকু মারবে। এ কথার রেকর্ড আমার কাছে আছে। তার কথা মত আমি শান্তি সমাবেশে যাইনি।
দুপুরে কলাপাড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাই সেখান থেকে আমি এবং এমপি একই সাথে কুয়াকাটা ফিরি। এমপি আমাকে সমাবেশে যেতে বললে আমি ঝামেলা হতে পারে বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এমপি সাহেব আমাকে বলেন দেখ সামনে নির্বাচন আসতেছে চল তোমাদের ঝামেলা মিটিয়ে দেই।
তার কথা মত আমি সমাবেশ স্থলে ঢুকলে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আমাকে গালাগালি করে আমার গায়ে হাত দেয়। তার ছেলে মাসুদ মোল্লা টানাটানি করে আমার পাঞ্জাবী ছিড়ে ফেলে। বারেক মোল্লার ছোট ভাই লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার মোল্লাও আমাকে মারধর করে।
আমি কোনমতে সভাস্থল থেকে বেড়িয়ে একটি ফার্মেসীর সামনে বসি তখন বারেক মোল্লার আরেক ভাই মোশারফ মোল্লা তার দলবল নিয়ে ফের আমার উপর হামলা চালায় ও আমাকে হত্যার চেষ্টা করে আমি তাৎক্ষনিক ছুটে গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলের ভিতর আশ্রয় নেই আমাকে বাঁচাতে গিযে আমার কয়েকজন লোক আহত হয়। পরে পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেট এসে তাদের প্রতিহত করে আমাকে উদ্ধার করেন। আমাকে মেরে ফেলতে পারলে তাদের রাস্তা পরিস্কার হয়। তাদের আর কোন প্রতিপক্ষ থাকেনা। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি তিনি ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বারেক মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যাবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছোট ভাই লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনসার মোল্লা সময়ের আলোকে বলেন, বিভিন্ন অপকর্মের কারনে আনোয়ার কুয়াকাটার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে বিতর্কিত। রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আসা একজন হাইব্রিড। তার জন্য দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। নেতাকর্মীরা তাকে পছন্দ করে না।
আজকে শান্তি সমাবেশ চলাকালে সংসদ সদস্যের সাথে সভাস্থলে ঢুকতে গেলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া করে। মেয়র সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে দাড়িয়ে থাকলে তার ঔদ্বত্তে ক্ষিপ্ত নেতাকর্মীরা ফের তাকে তাড়া করে। তিনি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলরর উদ্যেশ্যে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গনমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের জের ধরে একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মহিপুর থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম খান মেয়রের উপর হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, উত্তেজিত নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, কুয়াকাটা পৌর মেয়রের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছি। বিষটি ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।
