মহুয়া খেয়ে মাতাল হাতির পাল

নভেম্বর ১২ ২০২২, ১৭:৪৭

আমার বরিশাল ডেস্ক,

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: ভারতের বিভিন্ন অংশে মহুয়া গাছের ফুল পানিতে ভিজে রেখে এক ধরনের মদ বানানো হয়। দেশটিতে স্থানীয় ভাষায় একে মহুয়া বলে।

সম্প্রতি মহুয়া সংগ্রহ করতে জঙ্গলে যায় কিছু গ্রামবাসী। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, আগে থেকেই হাজির হাতির পাল। তারা সব মহুয়া খেয়ে ফেলেছে।

শুধু তা-ই নয়, মহুয়া খেয়ে মাতাল হাতিরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েও পড়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মদের ভাঙা পাত্রগুলো। এরপর হাতিগুলোকে জাগাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে গ্রামবাসী ও বনকর্মীদের।

ভারতের ওড়িশার কেওনঝাড়ে সম্প্রতি ঘটেছে এই ঘটনা। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় শিলিপদ জঙ্গলে ঢুকেছিল ২৪টি হাতির এক দল।

সেই জঙ্গলে মহুয়া সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রামবাসীরা দেখেন, হাতিগুলো শুয়ে রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পাশে পড়ে রয়েছে মহুয়া ভেজানো পানির পাত্রগুলো। সেখানকার সব মহুয়া খেয়ে ফেলেছে হাতির পাল। এরপর মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে জঙ্গলেই।

নারিয়া শেঠি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমরা জঙ্গলে গিয়েছিলাম। দেখি, মহুয়া রাখা সব পাত্র ভেঙেচুরে একাকার।এক ফোঁটা পানিও নেই। আমরা দেখতে পাই হাতিগুলো সেখানেই ঘুমাচ্ছিল। তারা মহুয়া ভেজানো পানি খেয়ে মাতাল হয়ে পড়েছিল।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পালে নয়টি পুরুষ, ছয়টি স্ত্রী ও নয়টি বাচ্চা হাতি ছিল। সবাই মহুয়ার নেশায় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল।

নারিয়া শেঠি আরও বলেন, আমরা হাতিগুলোতে জাগাতে চেষ্টা করি কিন্তু পারি নি। এরপর বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে জানানো হয়।

বনকর্মীরা এসেও হাতিগুলোর ঘুম সহজে ভাঙাতে পারেননি। রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের জাগাতে হয়েছে। বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ঘাসিরাম পত্র বলেছেন, ঘুম ভাঙার পর হাতির পাল আবার গভীর জঙ্গলে ফিরে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার ভোরবেলা থেকে হাতিদের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। অবশেষে সকাল ১০টার দিকে তাদের ঘুম ভাঙে।

তবে বন কর্মকর্তা ঘাসিরাম পাত্র বলেছেন, মহুয়া খেয়েই যে হাতিগুলো ঘুমিয়ে পড়েছিল, এমনটা না-ও হতে পারে। হয়তো এমনিই তারা জঙ্গলে বিশ্রাম নিতে এসেছিল। কিন্তু গ্রামবাসীর দাবি, হাতির পাল মহুয়া খেয়েই মাতাল হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন....