বাউফলে ফের দুর্ধর্ষ ডাকাতি !

আগস্ট ৩১ ২০২৩, ১৭:৩৮

আমার বরিশাল ডেস্ক,

বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে ফের দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। জানালার গ্রিল কেটে বসতঘরে প্রবেশ করে ডাকাতি করা হয়। ডাকাতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যাপক দৌড়ঝাপ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। নিরাপত্তাহীনতায় বসতঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এ ঘটনায় বুধবার (৩০আগস্ট) রাতে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এরআগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার পরবর্তী সময়ে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব কালাইয়া তিন দোকান নামক এলাকায় মো. মাসরুর জাহান আশিকের ঘরে দুর্র্ধষ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আশিক চাকুরির সুবাধে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে তার শিক্ষিকা মা, এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী বোন বসবাস করেন।

সোমবার গভীর রাতে তাদের বসতঘরের জানালার গ্রিল কেটে ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত পা বেধে ডাকাতি সংঘটিত করা হয়। একপর্যায়ে ডাকাতদের টর্স লাইটের আলোতে আশিকের মা পার্শ্ববর্তী আকন বাড়ির রায়হান নামক এক ডাকাতকে শনাক্ত করতে পারে।

ডাকাত দলের সদস্যরা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্নালঙ্কার, নগদ আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্মার্টফোন, স্মার্ট ঘড়ি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনা জানতে পেরে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরে আশিক।

আশিক বাড়িতে পৌছালে সন্দেহভাজন ডাকাত সদস্য রায়হান বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। তখন তিনি রায়হানকে দেখে উত্তেজিত হয়ে কয়েকটি চড় থাপ্পড় দেয়। চড় থাপ্পড়ের বিষয়টি ইস্যু বানিয়ে ডাকাতির ঘটনা আপোষ মিমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রভাবশালী মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাসরুর জাহান আশিকের মা বলেন, রায়হানের কন্ঠ ও চোখ মুখ দেখে আমি চিনতে পারি। ওরা (ডাকাত) আমাদের হাত পা বেধে ফেলে। আমার এবং আমার মেয়ের গলায় অস্ত্র ধরে এবং ধর্ষণসহ হত্যার হুমকি দেয়। আমি ভয়ে ডাকাতদের স্বর্ণ, টাকাসহ সবকিছু দেখিয়ে দেই।

ডাকাতরা যাওয়ার সময় হুমকি দেয় থানায় অভিযোগ দিলে আমার মেয়েকে ও ছেলেকে হত্যা করা হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে সন্দেহভাজন রায়হান আকন বলেন, আমি কিছুই জানি না। তারা সন্দেহ করে আমাকে মারধর করছে। ডাকাতির যে সময় বলা হচ্ছে তখন আমি পরিবারের সাথে নিজের ঘরে ছিলাম।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতি আসলেই ঘটেছে নাকি ঘটেনি পুলিশ এখনো নিশ্চিত না। বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত দুই মাসে বাউফল উপজেলায় প্রায় এক ডজন চুরি-ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। সূর্যমণি ইউনিয়নের একটি ডাকাতি ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলেও কমছে না ডাকাতি। এ নিয়ে পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....