রাঙ্গাবালীতে স্কুলমাঠে জলাবদ্ধতা, নিষ্কাশনের দাবি শিক্ষার্থীদের

আগস্ট ১৪ ২০২৩, ১৬:১২

আমার বরিশাল ডেস্ক,

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: টানা ১০ দিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের বড়বাইশদিয়া এ. হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ম্যানেজিং কমিটির ওপর ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। ওইখানের শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে, নিষ্কাশনেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের দায়ী করছেন। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তারাই করতে পারে।

স্কুলের ফান্ডের টাকা দিয়েই কমিটি আপাতত বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারে। আর বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নামাতে না পারলে ফান্ডের টাকার হিসাব দিক তারা। ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন স্কুলে আসে। স্কুলে ঢুকতে যদি পোশাক ভিজাতে হয়, এভাবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়বে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত রবিবার বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির সংখ্যা কমে গেছে। যারা বিদ্যালয়ে এসেছে তাদের পানির ভেতর দিয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয়ের মাঠ মাটি দিয়ে ভরাট করে উচু করার এবং পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। জলাবদ্ধাতার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না।

বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তক্তাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সাপ্তাহিক হাট-বাজারে যাওয়ার কাঁচাসড়ক ও পূর্ব পাশে ফেলাবুনিয়া লঞ্চঘাট যাওয়ার ইটের সড়ক দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি কেটে পাইপ বসালেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব।

অন্যদিকে, বড়বাইশদিয়া এ.হাকিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের খেলাধুলার মাঠ নিচু থাকার কারণে মাঠটি ইতোমধ্যে বালু দিয়ে ভরাট করেছে।

তাদের মাঠ ভরাট করার কারণে বড়বাইশদিয়া এ. হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আরো বেশি পানি জমে থাকে। আগে পানি কিছুটা হলেও সেখান থেকে নিষ্কাশন হতো।

বিদ্যালেয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা বিদ্যালয়ে আসার পথে অনেক সময় পানিতে ভিজে যাই। তখন ক্লাসে ভিজে অবস্থায় থাকতে হয় আমাদের।

অসুখ হওয়ার শঙ্কা বেশি থাকে। আমরা মাঠে হাটতে পারিনা, নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারিনা। মাঠ জলাবদ্ধতার কারণে মশার উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে পারে না।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সভাপতি মিলে তারা তাদরে মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। তাদের অবহেলার কারণে স্কুল মাঠে পানি জমে আছে।

তারা আরো বলেন, যখন পাশের স্কুলের মাঠ বালু দিয়ে ভরাট করে তখন তাদের বলা সত্ত্বেও সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তারা দুজনে আমলে নেননি। এবং তাদের বলা হয়েছে আপনারা একটি পাইপ বসিয়ে নিন তারা বসায়নি। বিগত দিনে তারা এই মাঠের ঘাস লিজ দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসাইন বলেন, ‘পাইপ এনে পানি সরাবো।’ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন (সানটু) মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখেছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা উচিত।’

পটুয়াখালীর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন করার ব্যপারে আমি কর্তৃপক্ষকে বলছি, যাতে করে তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন....