বাঁশের সাঁকোর স্থলে পাকা সেতু তৈরির দাবি

আগস্ট ০৭ ২০২৩, ১৯:৩৪

আমার বরিশাল ডেস্ক,

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি ‍॥ বরিশালের বানারীপাড়ার ইলুহার ইউনিয়নের পশ্চিম মলুহার ও বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারেরপাড় সংযোগ খালে বাঁশের সাঁকো যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে দুই গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

বিশারকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব উমারেরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উমারেরপাড়-মলুহার নেছারিয়া নুরানি হাফেজি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের এ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ কারণে সন্তানদের স্কুল বা মাদ্রাসায় পাঠিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ সাঁকো দিয়ে প্রসূতিসহ নারীদের স্থানীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যেতে হয়। বয়স্কদের চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কাজ হয়নি। তারা এ ব্যপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার পশ্চিম মলুহার গ্রামের মো. জাফর ইকবাল বলেন, জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি উপজেলা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বাঁশের সাঁকোর স্থলে পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবার তারা ব্রিজ করে দেবেন বলে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও মামুন মিয়া জানান, প্রতিদিন তাদের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। রাত-দিন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ ৫ শতাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয় মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিম জানায়, সেসহ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে ওই সাঁকো পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে। তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার জানে না। চলতি বর্ষা মৌসুমে খালে পানি বেশি থাকায় তাদের মনে ভয় আরও বেশি।

এ বিষয়ে ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি তাঁর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের অধিকাংশ সংযোগ খালে সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন। ওই সাঁকোর স্থলে বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর স্থলে লোহার সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক।

সংবাদটি শেয়ার করুন....