৩ বছর কারাদণ্ডের রায়ের পরই গ্রেপ্তার ইমরান
আগস্ট ০৫ ২০২৩, ১৬:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: শনিবার (৫ আগস্ট) আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন ইমরান খান। উপস্থিত ছিলেন না তার আইনজীবীরাও।এদিন বিকেলে তোষাখানা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (এডিএসজে) হুমায়ুন দিলাওয়ার মামলার রায় দেন।
তিনি বলেন, ইমরান খান ইচ্ছাকৃতভাবে ইসিপিতে (তোষাখানা উপহারের) জাল বিবরণ জমা দিয়েছেন এবং দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। নির্বাচনী আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে পিটিআই প্রধানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন তিনি ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই মামলার শুনানি শুরু হয়। ইমরানের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে বিচারক বারবার বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি অবশ্য আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আদালতে হাজির হওয়ার একাধিক সুযোগ দেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় এএসডিজে দিলাওয়ার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার শুনানির আগে আদালত চত্বরের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুধুমাত্র আইনজীবীদের আদালত কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ৯ মে আল কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়। অবশ্য ১২ মে জামিনে ছাড়া পান তিনি।
গত বছর পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন বা ইসিপি পিটিআই প্রধান ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিদেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে উপহার পেয়েছিলেন ইমরান।
প্রধানমন্ত্রী কোনো উপহার পেলে তা সাধারণত মন্ত্রিসভার অধীনে থাকা তোশাখানা দফতরে রাখা হয়। এইসব উপহারের মধ্যে বেশকিছু উপহার তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ইসিপি।
গত বছরের ২১ অক্টোবর ইসিপি জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উপহারের বিষয়ে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দিয়েছিলেন। সংবিধানের ৬৩(১)(পি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসিপি তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করেন।
তোষাখানা মামলায় কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অভিযোগের একটি অনুলিপি নিয়ে ইসলামাবাদের দায়রা আদালতের কাছে যান ইসিপি।
গত ১০ মে এই মামলায় ইমরানকে আসামি করা হয়। ৪ জুলাই ইসলামামাবাদ হাইকোর্ট নতুন করে মামলা পুনঃনিরীক্ষণের নির্দেশনা দেন।
৯ জুলাই এডিএসজে দিলাওয়ার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সাক্ষীদের তলব করেন। আরেকটি কোর্ট অধিবেশনে পিটিআই প্রধানের বিরুদ্ধে ইসিপির দেওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এই সিদ্ধান্তকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) চ্যালেঞ্জ করা হয়।
