সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, জেলে পল্লীতে হাহাকার
জুলাই ১০ ২০২৩, ১৩:৩২
কুয়াকাটা প্রতিনিধি : অভাব-অনটন আর চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছে উপকূলের জেলে পরিবার। হাহাকার চলছে কলাপাড়ার জেলে পল্লীগুলোতে। বঙ্গোপসাগর ও নদীর মাছকে ঘিরেই এখানকার জেলেদের জীবন-জীবিকার চাকা ঘোরে।
একদিকে সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির ফলে জেলেদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে। সংসারের ব্যয়ভার বহন ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের (ঋণ) টাকা শোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার জেলে। আয় রোজগারহীন দীর্ঘদিন বেকার সময় কাটানোর ফলে অনেকের ঘরের চুলায় এখন আগুন জ্বলছে না।
তাছাড়া অবরোধ উপেক্ষা করে যেসব জেলে সমুদ্রে মাছ শিকার করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে উপজেলা মৎস্য অফিসের বিভিন্ন অভিযানে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ। অবরোধ শেষ হওয়ার বাকি আরও ১৩ দিন।
জেলে রহমান বলেন, সরকার যে সহায়তা প্রদান করে তাতে আমাদের কিছুই হয় না। অনেকদিন ধরে বেকার হয়ে আছি। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাকি দিনগুলো কি হবে জানি না।
কুয়াকাটার মেলাপাড়া গ্রামের জামাল হোসেন বাড়ির উঠানে জাল বুনছেন আর বলছিছেন, ‘কার্তিক থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত মাত্র ২২ হাজার টাকা ভাগে পাইছি। সাগরে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যায় নাই। সরকার তো বছরে তিনবার অবরোধ দেয়। মুই এহন পোলা-মাইয়া লইয়া খুব কষ্টে দিন পার করছি।’
কলাপাড়ার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু শাহ বলেন, উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত ও ১৪ হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। মাছের সাথে সরাসরি ৬০ হাজার মানুষ, মাছ সম্পর্কিত কাজে আরও ১ লক্ষ মানুষ জড়িত রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রতিজন নিবন্ধিত জেলে ২ ধাপে ৮৬ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল পাবেন। ইতোমধ্যেই প্রথম ধাপে প্রতিজন জেলেকে ৫৬ কেজি করে চাল বিতরন সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে খুব শিগগিরই ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য উপজেলার ১১৭ জন জেলেকে বকনা গরু ও ৭৮ জিআইএফ জেলেকে বৈধ জাল দেওয়া হয়েছে মৎষ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।
