কলাপাড়ার ৫ ইউপির ভোট ১৬ মার্চ: আলোচনায় বোনজামাই-সম্বন্ধীর ভোটযুদ্ধ
মার্চ ১১ ২০২৩, ১৭:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: জমে উঠেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা। বিএনপি দলীয়ভাবে মাঠে না থাকলেও চাঙ্গা রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
তবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বালিয়াতলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বোন জামাইয়ের সঙ্গে সম্বন্ধীর ভোটযুদ্ধ। আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে উপজেলার বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ, ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
৫ ইউনিয়নে ভোটারের সংখ্যা ৬১ হাজার ১শ ৪৯ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন চেয়ারম্যান পদে ২০ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১শ ৪৬ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪৯ জন।
বর্তমানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। মাইকিং থেকে শুরু করে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার। চলছে উঠান বৈঠক এবং সভা সমাবেশ।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের কোন অভিযোগ না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের রয়েছে নানা অভিযোগ। তবে প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ভোটারদের মাঝে।
প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিদ্যমান নানা সমস্যার সমাধানে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান ভোটাররা।
আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছে চেয়ারম্যান পদে বালিয়াতলী ইউনিয়নের বোন জামাইয়ের সঙ্গে সম্বন্ধীর নির্বাচনী যুদ্ধ। নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বোন জামাই হুমায়ুন কবির স্বাগত জানিয়েছেন আনারস প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সম্বন্ধী রুহুল আমিনকে।
এদিকে সম্বন্ধী রুহুল আমিন বলছেন, সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বন্টন না হওয়ায় তিনি লড়ছেন বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এছাড়া বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে প্রচারে বাধা, কর্মীদের মারধরসহ নানা অভিযোগও রয়েছে তার।
বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ইউনিয়নে এখনো অনেক উন্নয়ন কাজ বাকি। বেশির ভাগ রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। যে প্রার্থী উন্নয়ন কাজ বেশি করতে পারবে বলে আমাদের মনে হবে আমরা তাকেই ভোট দিবো।
একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, ভোট আসলেই প্রার্থীরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। হাতে পায়ে ধরে ভোট ভিক্ষা চান।
তবে এভাবে আর আমাদের মন গলবে না। যে সমাজের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারবে তাকেই আমরা বাছাই করবো।নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, আমার সম্বন্ধী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
সে প্রতিদ্বন্ধীতা করায় আমার জন্য আরো ভালো হয়েছে। কারণ, তাকে নিয়ে এ ইউনিয়নে বিএনপির দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছে। তাকে আমি স্বাগত জানাই।
আনারস প্রতিকের প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, আমার বোন জামাই সরকারি মালামাল সঠিকভাবে বন্টন করেনি। অনেক অসহায় মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।
তাই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বোন জামাইয়ের লালিত ক্যাডাররা আমার কর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। প্রচারে বাধা দিচ্ছে। আমার জামাইসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে তারা মারধর করেছে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম বলেন, ভোটের প্রচারে দু-চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। এ অভিযোগগুলো পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালই আছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, নির্বাচনী এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয় সে বিষয়ে প্রার্থীদের নিয়ে বেশ কয়েকবার মিটিং করা হয়েছে। আশা করছি অবাধ সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।
আ/ মাহাদী
