কলাপাড়ায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বাছাইয়ের কাউন্সিল শেষ
জানুয়ারি ২৪ ২০২৩, ১৯:০৮
মো. ওমর ফারুক, কলাপাড়া ॥ আসছে ১৬ মার্চ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগ তৃর্নমূল নেতা কর্মীরা এখন সরব রয়েছে।
মঙ্গলবার বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাউন্সিল ভোট গ্রহনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের দুইদিন ব্যাপী প্রার্থী বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। এর আগে সোমবার ধানখালী, চম্পাপুর ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের প্রার্থী বাছায়ের ভোট নেয়া হয়েছে। তৃনমূল ভোটে বিজয়ী প্রার্থীরা এখন নমিনেশন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার নির্বাচনমূখী ৫ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃর্নমূল নেতা কর্মীদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে দলের একাধিক জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতা উপস্থিত থেকে বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের কাউন্সিল ভোট সম্পন্ন করেছেন। এ দুই ইউনিয়নে মোট ৫ জন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী অংশগ্রহন করেন। এদের মধ্যে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী হেমায়েত উদ্দিন হিরন ৫৩ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদন্ধী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান মারুফ পেয়েছেন ১১ ভোট। বালিয়াতলী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৪৭ ভোট। অন্য দুই প্রতিদন্ধী ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ১৮ ভোট ও গাজী ইসমাইল পেয়েছেন ৩ ভোট।
এছাড়া সোমবার ধানখালী, চম্পাপুর ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের কাউন্সিল ভোট নেয়া হয়। এ তিন ইউনিয়নের মধ্যে ধানখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শাহাজাদা পাভেজ টিনু মৃধা সর্বোচ্চ ৪২ ভোট পেয়ে উপজেলাবাসীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তার নিকটতম প্রতিদন্ধী ইউনিয়নে আ’লীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার পেয়েছেন ১৫ ভোট।
এছাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আ’লীগের সদস্য নিজাম বিশ্বাস ৫ ভোট, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ফকু ০ (শূন্য) ভোট, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক জাকির মৃধা ১ ভোট ও মো. জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ২ ভোট। চম্পাপুরে ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান পলাশ ১৮ ভোট পেয়ে ওই ইনিয়নে প্রথম স্থানে রয়েছেন।
তার নিকটতম প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও বর্তামান চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার ১৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এছাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবুল ও কামাল মৃধা যথাক্রমে ১১ ও ১৫ টি ভোট পেয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ডালবুগঞ্জে ইউনিয়ন আ’লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রী বেবী নাজনীন ২৯ ভোট পেয়ে প্রথম ও বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ২৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
এছাড়া মহিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোয়াইব খান ১৩ ভোট পেয়ে ওই ইউনিয়নে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের কাউন্সিলর, ডেলিগেটদের ভোটে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়দের নাম কেন্দ্রে নমিনেশনের জন্য পাঠানো হবে। তাই সকল প্রার্থীদের মাঝে এখন নমিনেশন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যে যার মত কেন্দ্র নেতাদের সাথে যোগযোগে ব্যস্ত সময় পার করছে। এছাড়া অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যেও নির্বাচনের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রসিদ বলেন, ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষনা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ মেয়াদোত্তীর্ন ৫টি ইউনিয়নে ইভিএম এর মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
