অবশেষে মুক্তিপণে উদ্ধার হলো ৪ মাঝি
জানুয়ারি ০৫ ২০২৩, ২২:৫৬
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি॥ ভোলার মনপুরার ট্রলারের অপহৃত ৪ মাঝিকে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী। মুক্তিপণে উদ্ধার হয়ে ফিরে আসায় জেলে পরিবারের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ট্রলারযোগে মনপুরায় আসে মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া জেলেরা।
অপহৃত জেলেদের উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন উদ্ধার হওয়া জেলেদের আড়তদার শাহে আলম বেপারী ও গিয়াস উদ্দিন আযম এবং জেলে পরিবারের সদস্যরা। মনপুরায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ফের উদ্ধার হওয়া জেলেরা মেঘনায় মাছ শিকারে চলে যান বলেও নিশ্চিত করেন তারা।
মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহৃত ৪ জেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৪ লাখ টাকা দাবি করে জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী। পরে দর কষাকষি করে ৩ লাখ টাকায় মুক্তি দেয় জলদস্যু বাহিনী।
মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- জসিম মাঝি, সাইফুল মাঝি, বাচ্চু মাঝি ও মিজান মাঝি। এদের সবার বাড়ি মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাকুচিয়া গ্রামে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেদের একটি সূত্রে জানা যায়, রাতে অপহৃত ৪ জেলের মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ট্রলারে করে হাতিয়ায় যায় অপহৃত জসিম মাঝির ভাই ফিরোজ। পরে জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর প্রধান মহিউদ্দিনকে ৩ মাঝির মুক্তিপণ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা করে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা ও অপর ১ মাঝির মুক্তিপণ বাবদ ৬৫ হাজার টাকাসহ ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দিলে ৪ মাঝিকে ছেড়ে দেয় জলদস্যু বাহিনী। পরে ট্রলারযোগে উদ্ধার হওয়া জেলেরা মনপুরায় ফিরে আসেন। মনপুরায় এসে তারা নদীতে মাছ শিকারে যান বলেও নিশ্চিত করে সূত্রটি।
এ ব্যাপারে উদ্ধার হওয়া জসিম মাঝির ভাই ফিরোজ জানান, মুক্তিপণের বিনিময়ে ৪ মাঝিকে উদ্ধার করে মনপুরায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জনান, পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে জানালে অপহৃত জেলেদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় জলদস্যু বাহিনী। তাই তারা পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে না জানিয়ে জলদস্যুদের মুক্তিপণের টাকা দেয়।
এ ব্যাপারে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের নৌপুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই কাউছার আলম জানান, অপহৃত জেলেরা উদ্ধার হয়েছেন। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা দিয়ে উদ্ধার হয়েছেন কিনা তিনি বলতে পারেননি তিনি। তবে তিনি জেলে আড়তদার ও জেলে পরিবারের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা বা জিডি করতে বললেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, জেলেরা ফিরে এসেছে। তবে জেলে পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি। এমনকি তারা কোনো প্রকার পুলিশকে সহযোগিতা করেনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি বুধবার ভোর ৫টায় মনপুরার চরপিয়াল ও হাতিয়ার উড়ির চরসংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকারে যান সাইফুল মাঝি, জসিম মাঝি, বাচ্চু মাঝি ও মিজান মাঝি। পরে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী চার জেলে ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাছ, নগদ টাকাসহ চার জেলে ট্রলার থেকে চার মাঝিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
