পটুয়াখালী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
জানুয়ারি ০২ ২০২৩, ১৭:৩৮
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ সার্বিক নিরাপত্তাসহ তিন দফা দাবি নিয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৮ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘট ডেকেছেন।
দাবি আদায়ে কলেজ কম্পাউন্ডে সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে তারা মানববন্ধন করেন। চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে তত্ত্বাবধায়কের অশোভন আচরণের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের অন্যতম দাবি হলো ইন্টার্ন নারী ও পুরুষ ডাক্তারদের আবাসিক হোস্টেলে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ, হোস্টেল সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা ও নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই বখাটে যুবক এবং চোর হোস্টেলে হানা দেয়। কখনও জানালার গ্রিল কেটে, কখনও কৌশলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে যায়। দুই বছর ধরে এসব দাবি নিয়ে হল প্রভোস্টের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও তিনি পদক্ষেপ নেননি।
ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সামিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সর্বশেষ ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর কে বা কারা বিকট আওয়াজ করে হোস্টেলে থাকা মেয়েদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। হোস্টেলের ২০৫ ও ৩০২ নম্বর কক্ষে দিনে বা রাতে সমানে সংঘটিত চুরির ঘটনা সম্প্রতি জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা। আরেক ইন্টার্ন ডাক্তার মেহেদী হাসান জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলে তিনি একটি তালাও কিনে দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে তত্ত্বাবধায়কের অফিস রুমে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক আজ অবসরে যাচ্ছেন। তবে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন পর্যন্ত নবনির্মিত আবাসিক হোস্টেলগুলো গণপূর্ত বিভাগ মেডিকেল কলেজকে হস্তান্তর করেনি। তিনি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সেবায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুই হলের প্রভোস্ট এবং আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া মেডিকেলের তৃতীয় ব্যাচের ৩৮ জন শিক্ষার্থী ২০২২ সালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন।
