বরিশালে বাজারের ভিতর আশ্রায়ন প্রকল্প : সুশীল সমাজের নিন্দা
ডিসেম্বর ১২ ২০২২, ২০:০০
আরিফ আহম্মেদ ॥ বরিশালের সদর উপজেলার বহুল ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী একটি বাজারের ভিতর আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরি করেছে উপজেলা প্রশাসন। পানি ওঠা থেকে প্রকল্পের চারটি ঘর বাঁচাতে এখন বালু ফেলে উঁচু করা হয়েছে। যারফলে ভারট হচ্ছে ঘর লাগোয়া খানঝির খালও। আর এ নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সরেজমিনে ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বরিশালের সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার ঘুরে প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অরূপ তালুকদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক কে এস এম মহিউদ্দিন মানিক এই আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলো নিয়ে নিন্দা জানান।
তারা বলেন, বাজারের ভিতর এটা কি করে করলো প্রশাসন? এটা কি বসবাসের কোনো পরিবেশ হবে? তাছাড়া এরফলেতো এই খালটিও নষ্ট হয়ে যাবে। তারা ঘরের চারপাশ ও ভিতরে ঘুরে দেখেন ও রান্নাঘর ও ছোট্ট বাথরুম যুক্ত টয়লেট নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন। ঘরগুলোতে তখন কাঠের আড়া তৈরির কাজ চলছিলো। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজার ইজারাদারসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে অভিযোগ করেন, নিয়মিত ইজারা দেয়া বাজারের ভিতর আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরিতে প্রথম থেকেই বাধা দিয়েছেন তারা। এখানে পানি ওঠে জানার পরও ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে গেছে প্রশাসন। এসময় স্থানীয়দের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন তারা। পরে সত্যি যখন জোয়ারের পানি ওঠে ও ঘরের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তখন খাল পার সংলগ্ন এই ১২/১৪ শতক জমি বালু ফেলে ভরাট ও উঁচু করে । এখন আবার ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের ভিতরও ভরাটের চেষ্টা করছে তারা।
ইজারাদার জাকির দফাদার ও জাফর খাঁ জানালেন, চলতি বছরেও দুই লক্ষ ছয় হাজার টাকা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে এই বাজার ইজারা নিয়েছেন তারা। ইজারা নেয়ার তিনমাসের মধ্যে বাজারে আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরি শুরু হলে এখন প্রধান সড়কে ও স্কুলের মাঠে বাজার বসছে। ইজারাদার আরো বলেন, বাজারের জন্য জায়গা দিতে বললে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহিদ খান ও চাঁদপুরা গ্রামের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম কালাম খান জানালেন, এবিষয়ে উপজেলা কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তা এসে সবকিছু করেছেন। আমরা কিছুই জানিনা। আমাদের ডাকারও প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি খাস জমিতে ঘর হয়েছে।
নীচু জায়গা তাই ভরাট করে বসবাস উপযোগী করা হয়েছে। এতে ক্ষতির কিছু নেই। তবে বরিশালের পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, পরিবেশ নষ্ট করে, প্রবাহমান জীবন নষ্ট করে অন্যের জীবন বাঁচাতে চায় যারা, তারা আসলে স্বার্থান্বেষী লোক। একটা ঐতিহ্যবাহী খাল ও বাজার নষ্ট করে আশ্রায়ন প্রকল্প যদি করা হয় আর সেখানে যারা বসবাস করতে আসবে তাদের প্রতিও সুবিচার করা হলোনা তাতে। অন্যদিকে নদী ও সমাজ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং সুজন বরিশালের সদস্য সচিব রফিকুল আলম বলেন, পানি আইনের ২০ ধারাতেই এটি স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ফোরশোর’’ এলাকায় কোনো স্থাপনা তৈরি করা যাবেনা।
অর্থাৎ বৎসরের যেকোন সময় ভরাকটাল এর সময় নদীর সর্বনিম্ন পানি স্তর হইতে সর্বোচ্চ পানি স্তর এর মধ্যবর্তী অংশ হইতে নদী বন্দর ও সমুদ্র বন্দর এলাকায় সর্বোচ্চ পানি স্তর হইতে নদীর তীর ৫০ (পঞ্চাশ) মিটার এবং অন্যান্য এলাকায় সর্বোচ্চ পানি স্তর হইতে ১০ (দশ) মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় কোনোরকম স্থাপনা তৈরি করা যাবেনা। এখানেতো তার উল্টো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দশ মিটারতো দূরের কথা ১ মিটার এলাকার মধ্যেই তৈরি হয়েছে এই আশ্রায়ন প্রকল্প। যা ঝুঁকিপূর্ণ ও আইন বহির্ভূত বলে মনে করেন রফিকুল আলম।
