ভোলার নদ-নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু

মার্চ ০১ ২০২৬, ১৯:০১

ভোলা : জাটকা সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে আজ রোববার ১ লা মার্চ সকাল থেকে ভোলার নদ-নদীসহ ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ফলে সামনের দুই মাস উপকূলীয় জেলা ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়া গৌরঙ্গা ও ইলিশা নদীসহ ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় এ নিষেধাজ্ঞা অব্যহত থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন আজ রোববার ভোরে সরেজমিনে ভোলা সদরের মেঘনা নদীর তুলাতুলি ও শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত আছেন জেলেরা। পুরো নদীর সবখানেই শুনসান নিরবতা। মাছ ঘাটগুলো বন্ধ রয়েছে। সেখানে নেই কোনো কোলাহল। ঘাটের হাঁকডাক আর মাছ বেঁচা-কেনা থমকে গেছে। মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেরা তাদের নৌ-ট্রলারগুলো পাড়ে নোঙ্গর করে রেখেছেন। জালগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন।

শিবপুরের জেলে নাসিম, শাহিন, আওলাদ ও তছির মাঝির সাথে আলাপকালে তারা বলেন, নিষেধজ্ঞাকালীন খাদ্য সহায়তা দিতে প্রশাসন যেনো কোনো প্রকার গড়িমসি না করেন। তাছাড়া চাল বিতরণে অতীতের বৈষম্য যেনো এবার আর না ঘটে, সে ব্যাপারেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জেলেরা।

ভোলার মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়া জানান, শুধু জেলেদের সহায়তা দিলেই সমস্যা কাটবেনা। আড়ৎদারেদর জন্য সহায়তার বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলায় জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছে মৎস্য বিভাগ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোলার জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জেলা সদরের ইলিশা ইউনিয়ের মাছঘট থেকে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা শুরু করে। ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আগামী ২ মাসের এই নিষেধাজ্ঞাকালীন নদীতে নামতে পারবেনা জেলেরা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বাসসকে জানান, নিষেধাজ্ঞা মানতে জনসচেতনতা সভাগুলোতে কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি,মৎস ব্যবসায়ী ও জেলেরা অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন,নদীতে টহল দিতে এবং অভিযান পরিচালনা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা টাস্কফোর্স আজ রোববার গভীর রাত থেকেই কাজ শুরু করেছে।
মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকার ২টি অভায়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার বন্ধ থাকবে। এতে করে জাটকা (ছোট ইলিশ) রক্ষাসহ অনান্য সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এজন্য মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজার, জেলে পল্লী, মাছ ঘাট ও মৎস্য আড়ৎগুলোতে জেলেদের নিয়ে এ সচেতনতা সভা অব্যাহত থাকবে।

জেলেদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানান দিতে ব্যানার, পোষ্টার, লিফলেট, মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ সময়ে জেলেদের গ্রহণ করা ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার জন্য এনজিওগুলোকে চিঠি দেয়ার আহবান জানান জেলেরা।

তথ্য অনুযায়ী, ভোলার ২টি অভায়শ্রম’সহ দেশের মোট ৬টি অভায়শ্রমে একইসময় থেকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন আরো জানান, শুধু জাটকা নয়, একই সময় একই সাথে অন্যান্য সকল মাছের পোনা অভয়াশ্রমে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। অভয়াশ্রমে থেকে দু মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিশসহ সব প্রকারের মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

ভোলার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর নেতারা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলার নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে ১লাখ জেলে সহায়তা পেলেও অনিবন্ধিত ৬৮ হাজার জেলে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই অনিবন্ধিত জেলেদের দ্রুত সহায়তার দাবি জানান মৎস্যজীবীরা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, আগামী দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে ৯০ হাজার ২শত ১৩ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সহায়তার সরকারি চাল দেয়া হবে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

জেলেরা জানান, রোজার মধ্যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালীন তাদেরকে সঠিকভাবে সহায়তা দেয়া না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হবে। তাই এসময়টিতে যেনো তাদের প্রতি সদয় আচরণ করা হয় এমন দাবি করেছেন ভোলা উপকূলের জেলেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এক্সক্লুসিভ আরও