দুই মাসের মাথায়ই ঢাকা-বরিশাল রুটের পিএস মাহসুদ

ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২৬, ১৯:৪৯

রাষ্ট্রীয় নৌ-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত ও সংরক্ষণ শেষে চালু হলেও দুই মাস ধরে বরিশালমুখী কোনো যাত্রা করেনি। পর্যটক সার্ভিস হিসেবে নতুন করে যাত্রা শুরুর ঘোষণায় আশাবাদী হলেও বাস্তবে জাহাজটির অনুপস্থিতিতে হতাশ বরিশালবাসী।

প্রায় পাঁচ বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বাইরে থাকা পিএস মাহসুদ দীর্ঘ মেরামত শেষে গত ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। নৌ পরিবহন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে উদ্বোধনের পর পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে যাত্রাও সম্পন্ন হয়। পরে ২৮ নভেম্বর জাহাজটি পর্যটক সার্ভিস হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে আসে এবং পরদিন ঢাকায় ফিরে যায়।

তবে ৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় বরিশালে আসার পর ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরত যাওয়ার পর থেকেই জাহাজটির আর কোনো বরিশালমুখী যাত্রা নেই। গত দুই মাসে একবারও বরিশাল নদীবন্দরে পিএস মাহসুদের হুইসেল শোনা যায়নি।

গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককে সঙ্গে নিয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পিএস মাহসুদে ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমণ করেন। এরপর জাহাজটি ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রীন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস মাসিক ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে জাহাজটি ইজারা নেওয়ার পর থেকেই বরিশাল রুট কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ইজারা দেওয়ার আগে সপ্তাহে অন্তত একদিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইজারাদার নিজস্ব বাণিজ্যিক সুবিধা বিবেচনায় জাহাজ পরিচালনা করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সাপ্তাহিক বরিশাল রুটের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে না।

জানা গেছে, ইজারাদার সংস্থার ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা এবং ইজারা বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে। ছয় মাসের ভাড়া অগ্রিম দিয়ে দুই বছরের জন্য ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১২ নভেম্বর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। সে সময় তিনি দেশের নৌ-ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্যাডেল স্টিমারসহ পুরোনো নৌযান সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন।

এরই মধ্যে পিএস মাহসুদের পর পিএস অস্ট্রিচ জাহাজটির ইজারা প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাংক গ্যারান্টি জমা সাপেক্ষে পাঁচ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে বেআইনিভাবে ইজারা দেওয়ার কারণে পিএস অস্ট্রিচ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয় এবং এখনো বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলমান।

অন্যদিকে, সংস্থার অধীনে থাকা পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন নামের আরও দুটি ঐতিহ্যবাহী নৌযান দীর্ঘদিন ধরে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্নে পড়ে রয়েছে। এসব নৌযানের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭  

এক্সক্লুসিভ আরও